Image description

আব্দুল্লাহিল আমান আজমী বলেছেন, প্ৰিয় জেনারেল ওয়াকার (সেনাপ্রধান), সকল জিওসিগণ, ডিজি বিজিবি ও ডিজি অনসার এই বাংলাদেশ তোমাদের, আমাদের, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশের ১৮ কোটি জনগণের। তোমরা, আমরা, সকলেই এই দেশকে ভালোবাসি। দেশ ভালো থাকলে আমরা সব্বাই ভালো থাকবো। আমাদের ভবিষৎ বংশধরগণও ভালো থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার ভেরিফাই ফেসবুক পেজে এ বার্তা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রানপ্রিয় এই দেশের সর্রবস্তরের জনগণের আশা-ভরসা-আস্থার স্থল আমাদের প্রানপ্রিয় এই সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতীকও বটে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, তোমাদের পূর্বসূরীদের কিছু কিছু বিভ্রান্ত ও দূর্নীতিবাজ অফিসারের অপকর্মের কারণে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আজ মানুষের আস্থা আর ভালোবাসার পরিবর্তে  অনেকের কাছে উপহাসের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। 

সেনাবাহিনীর এই অবস্থা দেখে আমার বুকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে; শরীরে আগুন জ্বলছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। দেশবাসীর সাথে আমিও তোমাদের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছি। আমার প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীর প্রানপ্রিয় ছোট ভাইয়েরা, জাতির এই ক্রান্তিকালে, তোমাদের বড় ভাই হিসেবে, তোমাদের (অধিকাংশের) শিক্ষক হিসেবে, কারো কারো কমান্ডার হিসেবে, তোমাদের কাছে হাতজোড় করে নিবেদন করছি - তোমাদের আনুগত্য যেই দেশের প্রতি, যেই সংবিধানের প্রতি, যেই দেশের মানুষের প্রতি - যারা তোমাদেরই মা-বাবা- ভাই-বোন, বন্ধু-স্বজন - সেইসব মানুষের প্রতি তোমাদের পূর্বসূরীদের মত আর যুলুম করে দেশের সম্পদ এই বাহিনীটাকে আর ক্ষতিগ্রস্থ করোনা। 

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর নাম নিয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য শপথ নিয়ে কমিশন্ড অফিসার হয়েছো। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যারা মানুষের উপর যুলুম করেছিল, গুম-খুন-লুটতরাজ করেছিল, সেই সব যালেমদের এসব অপকর্মের দোসর হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, যা তোমাদের পুর্বসূরীরা করেছে। তোমরা সেই অন্ধ অনুগত্যকে "না" বলে, দলমতের উর্ধে উঠে মানুষকে তার পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে সাহায্য করবে এই আশা নিয়ে তোমাদের কাছে আমার এই নিবেদন।

আব্দুল্লাহিল আমান আজমী বলেন, আমি আশা করবো, জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারে তা তোমরা নিশ্চিত করবেই। কোথাও কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হলে সাথে সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যাবার পরিবেশ তোমাদেরকে নিশ্চিত করতেই হবে। দীর্ঘদিন পরে দেশকে একটি সুন্দর নির্বাচন তোমরাই উপহার দিতে পারবে। 

এই কাজ যদি করতে পারো, তাহলেই সেনাবাহিনীর দূর্নাম মুছে দিয়ে তোমরা দেশবাসীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে। সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব যদি তোমরা ফিরিয়ে আনতে পারো, তাহলে জাতি তোমাদের মাথার মুকুট বানিয়ে রাখবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আর যদি তা করতে ব্যর্থ হও, বা সেই দায়িত্ব পালনে গাফলতি কর, তাহলে আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আসন্ন রমযানে, আমি আযমী, কাবায় গিয়ে কাবার গেলাফ ধরে, কাবার মালিকের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে "মামলা" করবো ইনশাআল্লাহ। আয়নাঘরে ২৯০৮ দিন কান্না করে কাবার মালিকের কাছে আমার আকুতিভরা দোয়ার (বদোদোয়া নয়) ফল ২০২৪ এ দেখেছো। কাবার গেলাফ ধরে রমযান মাসের আমার সেই দোয়ার ভয়াবহতা কি হতে পারে তা কল্পনা করার সাধ্য কারো নেই।

অপকর্মকারী জেনারেলরা আজ মাথায় হুলিয়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তান সহ কেউ পলাতক, কেউবা বন্দি। যারা পলাতক, যেখানেই আছে, সমাজে মুখ দেখাতে পারছেনা। তোমরা তোমাদের নিজেদের ও স্ত্রী-সন্তানদের কেমন ভবিষৎ চাও তা ভেবে ১২ তারিখে কাজ করবে এই আশা নিয়ে তোমাদের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। প্রাণভরা দোয়া রইলো তোমাদের জন্য।