রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গতকাল সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। আগামীকাল সকাল থেকে দেশের তিন শতাধিক আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। কিন্তু ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। ইতিমধ্যে নানা শঙ্কার কথা গোয়েন্দা রিপোর্টেও উঠে এসেছে। প্রার্থী ও ভোটাররা আগে থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।
এবারের ব্যালটে সবচেয়ে বড় থ্রেট বুলেট। আর ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভোটপ্রদানে বাধার শঙ্কাও আছে আলোচনায়। গোয়েন্দা রিপোর্টে দেশের কম-বেশি সব আসনে ঘটে যাওয়া সংঘাতের চিত্র উঠে এসেছে। সবক’টি সংসদীয় আসনের অতিঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাত হতে পারে- এমন কেন্দ্রের তালিকাও করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে এমন পেশাদার শুটারদের তালিকা করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই করতে পারে- এমন সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তাদেরকে ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর বাইরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ সব কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট বানচালের জন্য যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নানা শঙ্কার কথা মাথায় রেখে এবারের জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা ছক সাজিয়েছে। সবক’টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সেসব এলাকায় সিসি ক্যামেরার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তায় ২৫ হাজারের বেশি বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এবারের ভোটের নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী এক লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, পুলিশ এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন।
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে ১৩টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫। গোয়েন্দাদের তালিকায় মধ্যম ঝুঁকি রয়েছে এমন একটি তালিকাও করেছেন। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে উঠে এসেছে, ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোণা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩।
আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিভাগওয়ারী অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ভোট বানচাল করতে পারে এমন তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের ২২টি আসন, ময়মনসিংহের ৮, সিলেটের ২, চট্টগ্রামের ১৬, রংপুর বিভাগে ৭, রাজশাহী বিভাগের ১০, খুলনা ও বরিশালের ১৩ আসন রয়েছে। এ সব আসনের প্রায় ২৯০৬টি কেন্দ্রকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা বিভাগের আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে- টাঙ্গাইল-১ এর ২৭, টাঙ্গাইল-৪ এর ১১, টাঙ্গাইল-৮-এর ৯, কিশোরগঞ্জ-৪ এর ৪৮, কিশোরগঞ্জ-৫ এর ৩০, মানিকগঞ্জ-১ এর ৩৪, মুন্সীগঞ্জ-১ এর ১৭, ঢাকা-২ এর ১০, ঢাকা-৩ এর সাত, ঢাকা-৪ এর ৭০, ঢাকা-৭ এর ৯০, ঢাকা-৮ এর ৫৪, ঢাকা ১০-এর ৪৮, ঢাকা-১ এর ৬৩ এবং ঢাকা-১৫ এর ২৮টি কেন্দ্র আছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ এর ৪৪, নারায়ণগঞ্জ-৩ এর ৩৯, নারায়ণগঞ্জ-৪৩ এর ২৭, ফরিদপুর-৪ এর ১৮, শরীয়তপুর-১ এর ৫৪, শরীয়তপুর-২ এর ৩৮ এবং মাদারীপুর-৩ এর ৫২টি কেন্দ্র এই তালিকায় রয়েছে।
রংপুরের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি আসনের মধ্যে আছে- পঞ্চগড়-১ এর ১৪টি, ঠাকুরগাঁও-১ এর ৮৪, ঠাকুরগাঁও-৩ এর ১১, লালমনিরহাট-১ এর ৪০ রংপুর-৩ এর ৩৩, রংপুর-৪ এর ৩১ এবং গাইবান্ধা-৫ এর ৩২টি কেন্দ্র। রাজশাহীর কেন্দ্রগুলোর মধ্যে- বগুড়া-২ এর ২৬, বগুড়া-৪ এর ৩১, বগুড়া-৫ এর ৪১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর ২৫, রাজশাহী-১ এর ৫৪, রাজশাহী-২ এর ২৮, নাটোর-১ এর ১৩, সিরাজগঞ্জ-১ এর ৫২, সিরাজগঞ্জ-২ এর ১৮, সিরাজগঞ্জ-৪ এর ২৯, পাবনা-১ এর ছয় এবং পাবনা-২৩ এর ১৪টি কেন্দ্র আছে। অধিক ঝুঁকির মধ্যে আছে- খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া-১ এর ৭২, কুষ্টিয়া-৩ এর ২২, চুয়াডাঙ্গা-১ এর ১৬, ঝিনাইদহ-৩ এর ২১, ঝিনাইদহ-৪ এর সাত, যশোর-২ এর ১৮, যশোর-৫ এর ১৩, খুলনা-২ এর ৪৯, খুলনা-৩ এর ২১, খুলনা-৪ এর ৫৮, খুলনা-৫ এর ৪০, সাতক্ষীরা-১ এর পাঁচ এবং বাগেরহাট-১ এর ৫৯টি কেন্দ্র। বরিশালের অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-বরগুনা-২ এর ১৪টি, ঝালকাঠি-১ এর ১৮, পটুয়াখালী-২ এর ২১, পটুয়াখালী-৩ এর ৮০টি। ভোলার চারটি (১, ২, ৩ ও ৪) আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা যথাক্রমে-১০, ৭১, ৪৩ এবং ২৫টি। বরিশাল ১, ৩ এবং ৫ আসনের যেক’টি কেন্দ্র অতিরিক্ত ব্যালট পেপার এবং দেশীয় অস্ত্রের ঝুঁকিতে আছে সেগুলো যথাক্রমে- ২, ৩১ এবং ১০০টি। এছাড়া আছে পিরোজপুর-২-এর ২৮ এবং পিরোজপুর-৩ এর ৪৭টি কেন্দ্র।
সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ-২ এর ১৩টি এবং মৌলভীবাজার-৩ এর ৫০ কেন্দ্র রয়েছে অধিক ঝুঁকিতে। চট্টগ্রাম বিভাগের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কুমিল্লা-৪ এর ১০, কুমিল্ল-৯ এর ১৮, কুমিল্লা-১১ এর ৫০, চাঁদপুর-৩ এর ৩৮, নোয়াখালী-২ এর দুই, নোয়াখালী-৬ এর ছয়, চট্টগ্রাম-২ এর ৩, চট্টগ্রাম-১০ এর ৯৪, চট্টগ্রাম-১১ এর ৪৬, চট্টগ্রাম-১৪ এর ৫১, চট্টগ্রাম-১৫ এর ৫৯, চট্টগ্রাম-১৬৭ এর ৪১, ফেনী-১ এর ২৫, ফেনী-৩ এর ৩০, লক্ষ্মীপুর-২ এর ৫৭ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ এর ৬৮টি কেন্দ্র আছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে।
ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতির সুযোগ নিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এ বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অবস্থান, ভোটারের সংখ্যা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১৬১৪টি ভোটকেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম ৪ জন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর আটটি ডিভিশনে আটটি পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নেতৃত্বে থাকা এসব ফোর্স প্রয়োজনে দ্রুত যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা যাবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য, সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। থানা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এমন দুর্গম এলাকায় ৩৭টি কেন্দ্রে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সবমিলিয়ে নির্বাচন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরুর বলেছেন, ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে যেন ভোটগ্রহণ হয় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন ধরনের হবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এবার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এবার নির্বাচনে সহিংসতা, সংঘর্ষ, গুলি, গুপ্তহত্যা, টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ, ঘটে যাওয়া ঘটনা বিশ্লেষণ, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা, ছোট-বড় অপরাধীদের তৎপরতা, জেল থেকে পালানো বন্দিদের ধরতে না পারা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্ত হওয়াসহ বেশ কিছু কারণে এবারের আশঙ্কাটা অতীতের তুলনায় একটু বেশি। নাশকতা সহিংসতা বেশি হতে পারে এমন কিছু জেলাকেও তালিকায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমন কিছু জেলাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় আগের নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে সেগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গোয়েন্দারা বলছেন, খুনখারাবির আশঙ্কা থেকে কোনো এলাকাকেই কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। কারণ যে এলাকায় নির্বাচনী গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটবে সেই এলাকার নির্বাচনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি করতে না পারে সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র দখল, আধিপত্য বিস্তারসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে না পারে সেটিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর সন্ত্রাসী, কিলার, শুটার, পেশাদার অপরাধীদের তালিকা ধরে জেলা পুলিশ কাজ করছে।