নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বরিশালের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ আশ্বিনী কুমার টাউন হলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কেন্দ্রীক সামগ্রিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিলে তারা বলছেন এসপিকে জানাতে। এসপি আবার বলছেন বিষয়টিতে তাদের এখতিয়ার নেই। অভিযোগগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ডিসি ও এসপি তাদের কৃতকর্মের দায়ে চাকরি হারিয়ে জেল হাজতে রয়েছেন। আমরা নির্বাচিত না হলেও পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।
অভিযোগ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আমরা এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সাথে একমত হলেও উপর মহলের গড়িমসির কারণে কোনো অভিযান হচ্ছেনা। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকার মুলাদী উপজেলার নদী-বেষ্টিত তিনটি ইউনিয়নের ১৪টি কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সফিপুর, বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নে একটি বিশেষ দলের ক্যাডাররা ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে, কেন্দ্রে যেতে দেবে না অথবা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাঁপ প্রয়োগ করছে। এসব এলাকায় ভোট ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে এবং তাদের পক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পরেছে। তাই ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ গণ্ডগোল করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সেটা যদি আমার লোকও হয়, তাকে ছাড় দেওয়া যাবেনা। আইনের প্রশ্নে কাউকে ছাড় নেই। এখনও অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অন্য প্রার্থীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ভোটারদের মানুষ নয়, ছাগল মনে করছেন। অবৈধ টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তারা বলে, কাঁঠালপাতা দেখালেই ছাগলের অভাব হয়না।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার জাল নোট ঢুকেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে, রাতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, অনেক প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দলীয় পরিচয় রয়েছে এবং তারা পূর্বে নির্দিষ্ট দলের সুবিধাভোগী ছিলেন। অনুরোধ করছি, প্রজাতন্ত্রের কেউ যেন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ না করেন। ২০২৪, ২০১৮ বা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবেনা।
সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে জনগণের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এই অঞ্চলের মানুষ গত ৫০ বছরে কতোটা প্রতারিত হয়েছে।
এ সময় বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, সহকারী সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অলিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জেলা ও মহানগর এবি পার্টির সদস্য সচিব জিএম রাব্বিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।