মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। অধ্যাপক আজাদ খানের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে তাকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাউশির নতুন ডিজি নিয়োগের জন্য ৬ অক্টোবর, ২০২৫ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজি (মহাপরিচালক) পদের যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয় ‘আগ্রহী প্রার্থীকে সৎ, দায়িত্বপরায়ণ এবং প্রশাসনিক কাজে দক্ষ হতে হবে’। আগ্রহী প্রার্থীদের মৌখিক সাক্ষাতকার এবং সর্ট লিস্টও তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ওই সর্ট লিস্ট নিয়ে নানা রকমের দেনদরবার এবং প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় এক পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। কিন্তু এই ফাঁকে অধিদপ্তরের ডিজি পদে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বহাল রয়ে গেছেন এমন এক কর্মকর্তা যিনি শুধু ফ্যাসিস্টের দোসরই নয়, একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ হিসেবেও পরিচিত এবং তার দুর্নীতির তদন্ত চলছিল তখনও। সৎ কর্মকর্তার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, বি এম আব্দুল হান্নানকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে দীর্ঘদিন ধরে বহাল রাখায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সচিবের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এই আব্দুল হান্নান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি পদেই শুধু নয়, একই সঙ্গে অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) পদেও আছেন। গত বছরের ৬ এপ্রিল তাকে যখন পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) পদে পদায়ন দেওয়া হয় ওই সময় তিনি ওএসডি ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিরোধে প্রকাশ্য ভূমিকা রাখার কারণে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের দাবির মুখে ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে তাকে ওএসডি করা হয়েছিল। বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা এই আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগও দেয় তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর তদন্ত চলছিল। তারমধ্যেই বি এম আব্দুল হান্নান সবাইকে অবাক করে দিয়ে শিক্ষা খাতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ পরিচালক, কলেজ ও প্রশাসন পদে আসীন হলেন। এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতির তদন্তসহ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভেস্তে যায়। এরপরে অক্টোবরে অতিরিক্ত দায়িত্বে শিক্ষা খাতের এক নম্বর শীর্ষ পদও বাগিয়ে নেন তিনি। তারপর থেকে গত কয়েক মাস ধরে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা একই সঙ্গে দখল করে আছেন শিক্ষা ক্যাডারের সবচেয়ে শীর্ষ দুটি পদ। যা নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান ছিলেন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে। অধ্যক্ষ পদে থাকাকালে জুলাই, ২০২৪ অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে প্রতিহত করার আওয়ামী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে প্রমাণাদি রয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৮ জুলাই, ২০২৪ তারিখে অধ্যক্ষ প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। যখন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ সরকার এবং ছাত্রলীগের গুন্ডা বাহিনী নির্যাতন চালাচ্ছিল, তখন অধ্যক্ষ প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে কলেজে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের একনিষ্ট কর্মী হিসেবে প্রমাণের জন্য এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। এ অনুষ্ঠান করার কোন বাধ্যবাধকতা ছিলো না, সরকারের কাছ থেকেও অফিসিয়াল কোনো নির্দেশ বা নির্দেশনা ছিল না। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাউশি’র কোন কর্তাব্যক্তিকে আমন্ত্রণও করা হয়নি। যখন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলছিলো, ঠিক তখন তিনি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বস্তুত, অধ্যক্ষ প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান সরকারকে দেখাতে চেয়েছেন তিনি একজন একনিষ্ঠ আওয়ামী লীগার।
এছাড়া বিগত সময় কলেজটিতে অধ্যক্ষ পদে থাকাকালে বি এম আব্দুল হান্নান অনেক অনিয়ম-অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। এসব অপকর্মের কারণে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বি এম আব্দুল হান্নান আর সেই কলেজে যেতে পারেননি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ভয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ফলে মন্ত্রণালয় বাধ্য হয়ে তাকে ওএসডি করে সেই অবস্থায়ই রাখে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বি এম আব্দুল হান্নানের নানা অনিয়ম-অপকর্মের তথ্যসহ মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দাখিল করেন। ছাত্রদের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর ২৮ অক্টোবর, ২০২৪ লিখিতভাবে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ৮ জুলাই, ২০২৪ অধ্যক্ষ বি এম আব্দুল হান্নান তৎকালীন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেলসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যে রাজনৈতিক সভার আয়োজন করেছিলেন এ সংক্রান্ত একাধিক ছবিও অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়। বি এম আব্দুল হান্নান অধ্যক্ষ পদে থাকাকালে বদরে আলম কলেজে অর্থ আত্মসাতসহ যেসব দুর্নীতি-অনিয়ম করেছেন এর বিস্তারিত বিবরণও সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয় অভিযোগপত্রে।
বি এম আব্দুল হান্নানের এসব দুর্নীতি তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে। মাধ্যমিক উচ্চ ও শিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখার উপসচিব শাহিনা পারভীনের স্বাক্ষরে অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিটি পাঠানো হয় ৩ ডিসেম্বর. ২০২৪। এরপরে একই বিষয়ে মন্ত্রণালয় আবারো ২ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান, অধ্যক্ষ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। বিষয়টি একজন উপযুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা তদন্তপূর্বক আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন অত্র কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।” মন্ত্রণালয়ের প্রথম চিঠি পাওয়ার পরই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় টঙ্গী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামকে। অধিদপ্তর থেকে কলেজ-১ শাখার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিউল বশর এর স্বাক্ষরে ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ এ চিঠিটি পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হওয়ায় অধিদপ্তর থেকে পরবর্তীতে ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ টঙ্গী কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর তাগাদাপত্রও দেয়া হয়। তাগাদাপত্রে মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরিভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি’র তাগাদার পরিপেক্ষিতে টঙ্গী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেন। তদন্ত কার্যক্রমের শুরুতে তিনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (তখন ওএসডি) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান এবং উক্ত কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক (বাংলা) মো. শহীদুল ইসলাম বরাবর ৯ মার্চ, ২০২৫ তারিখে একটি চিঠি ইস্যু করেন। চিঠিতে তিনি এই দুজনকে দায়িত্ব দেন (ক) ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সকল শিক্ষক/ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক (খ) সকল কর্মচারী/ সংশ্লিষ্ট কর্মচারী (গ) অভিযোগকারী মো. আব্দুল হাফিজ, অনার্স ২য় বষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং (ঘ) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ১২/০৩/২০২৫ তারিখে সকাল ১০ টায় কলেজে উপস্থিত থেকে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার জন্য।
জানা যায়, অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করে এ সংকট থেকে উত্তরনের জন্য বিভিন্ন মহলে তদবিরের কাজে লেগে যান। এক পর্যায়ে তিনি তদবিরের বড় ধরনের যাদুর কাঠিও পেয়ে যান। তদবিরের ‘যাদুর কাঠি’র জোরে শুধু দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচা-ই নয়, শিক্ষা ক্যাডারের শীর্ষ এমন এক পদে বসার সুযোগ পান তিনি, যারফলে তাঁর বিরুদ্ধে আর কেউ তদন্ত করার সাহসই পায়নি।
বি এম আব্দুল হান্নানের যথাযথ সহযোগিতা ছাড়াই টঙ্গী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের তদন্ত যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তিনি প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে আব্দুল হান্নানকে ওএসডি থেকে মাউশির পরিচালক, কলেজ ও প্রশাসন পদে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপরে তদন্ত কর্মকর্তা প্রফেসর রফিকুল ইসলাম প্রতিবেদন তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়ার আর সাহসই পাননি। অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানের দুর্নীতির তদন্ত এভাবেই আটকে যায়।
সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের অনুসন্ধানে সম্প্রতি এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব পদে সিদ্দিক জোবায়ের থাকাকালে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এতো ঘটনা কিছুই সিদ্দিক জোবায়ের জানেন না বলে জানিয়েছেন। এ সংক্রান্ত নথি তলব করবেন বলে শীর্ষকাগজ প্রতিবেদককে জানান তখন। পরবর্তীতে ফোনে তাঁর কাছে আবারো এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, নথিতে এসব ঘটনা কিছুই উল্লেখ নেই। নথি উপস্থাপনকারী কর্মকর্তারা এ বিষয়গুলো তুলে ধরেননি। তদন্ত সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও নথিতে নেই বলে তিনি জানান। অবশ্য, এর দু’তিন দিন পরেই মাইলস্টোন ঘটনার জের হিসেবে সিদ্দিক জোবায়ের শিক্ষা সচিব পদ থেকে প্রত্যাহার হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বিরোধী অবস্থান এবং অতীত দুর্নীতির দায়ে নিশ্চিত শাস্তির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে বি এম আব্দুল হান্নান তদবিরের এমন এক যাদুর কাঠি পেয়ে যান যে, ওই যাদুর কাঠির জোরে মন্ত্রণালয়ের নথি থেকে অভিযোগপত্রসহ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায়। অথচ এর আগ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের জন্য অত্যন্ত সিরিয়াস ছিল মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জরুরিভিত্তিতে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তারমধ্যেই হঠাৎ দেখা গেলো, মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। শাস্তির পরিবর্তে তাঁকে পুরস্কার দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তাঁকে মাউশির পরিচালক কলেজ ও প্রশাসন পদে পদায়নের নির্দেশ এলো। বলা হলো, নথি থেকে দুর্নীতির তদন্ত সংক্রান্ত কাগজগুলো ছিঁড়ে ফেলতে। নেতিবাচক কোনো তথ্য না দিয়ে শুধুমাত্র ইতিবাচক তথ্যে নথি উপস্থাপন করতে। এবং সেটাই করা হলো। জরুরিভিত্তিতে নথিটি উপস্থাপিত ও অনুমোদিত হলো। জিও জারি হলো। তারপরেই আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ ও তদন্ত থেমে যায়। গত অক্টোবরে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিজি অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীনকে ম্যানেজ করে এই তদন্ত চূড়ান্তভাবেই ধামাচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
উল্লেখ্য, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ- এর অধ্যক্ষ প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান পূর্বে একই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর থেকে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে বদলি হন। আবার সেই আওয়ামী লীগ শাসনামলেই প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বদলী হয়ে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর এ উপাধ্যক্ষ পদে আসীন হন। এখানে থাকাকালেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি পান। তিনি একজন খাঁটি আওয়ামী লীগার বলেই বারবার পছন্দের পদে পোস্টিং এবং পদোন্নতি নিতে পেয়েছেন। কারণ, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গোয়েন্দা রিপোটের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে পোস্টিং দেয়া হতো।
শীর্ষনিউজ