Image description

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নির্বাচনী গণমিছিল শুরুর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ অনুরোধ জানান।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ১১ দলীয় জোটের সব নেতাকর্মীকে ১২ তারিখ প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনারা যারা ৫ আগস্ট জীবন দিতে পেরেছেন, তাদের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা কোনো কঠিন কাজ নয়। আমার যে ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছেন, হাত-পা কিংবা চোখ হারিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার মাফিয়াতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করেছেন; তাদের কাছে একটি দিন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা বড় কোনো বিষয় নয়।

 
 

তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখ ফজর থেকে মাগরিব এবং কেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত আপনাদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকতে হবে। যদি কোনো মাফিয়া বা সন্ত্রাসী কেন্দ্র দখল করতে আসে কিংবা একজন ভোটারকেও ভোট না দিয়ে ফেরত যেতে হয়, তবে সেদিন বাংলাদেশ আবারও ৫ আগস্টের সেই গণঅভ্যুত্থানের রূপ দেখবে।

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। গত ১৭ বছর এবং পরবর্তী ১৭ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী দলগুলোর ঐক্যকে বিজয়ী করতে প্রস্তুত। এখন প্রতিটি আসনে ও কেন্দ্রে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব হলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভোটদান নিশ্চিত করা। আমরা যদি শুধু এটি নিশ্চিত করতে পারি যে জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিয়ে ফিরতে পারবে, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার মধ্যেই আমাদের বিজয়ের ঘোষণা চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।"

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখেছি একটি নির্দিষ্ট দল ঋণখেলাপি, বিদেশি নাগরিক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন দিয়েছে। কারণ তারা জানে, দেশের মানুষ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা মাফিয়া ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনও প্রতিদিন নতুন নতুন 'সারপ্রাইজ' দিচ্ছে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, গতকাল তারা জানাল কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নেওয়া যাবে না, যাতে কেন্দ্র দখল করে ভোট চুরির খবর বাইরে না আসে। কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধ চাপের মুখে তারা আজ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া আমাদের তরুণদের একটি প্রশিক্ষিত অংশ বিএনসিসি (BNCC) করে। তাদের এবার কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট বলেছি, দেশপ্রেমিক বিএনসিসি সদস্যদের কেন্দ্রে থাকার সুযোগ দিতে হবে যাতে কোনো গণচোর বা মাফিয়া কেন্দ্র দখল করতে না পারে। কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।