নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদলের কমিটি থেকে বহিষ্কার হন মোসাদ্দেক আল হক শান্ত। তবে মাস্টার্সে অভাবনীয় ফল করায় ফের ছাত্রদল পরিচয় সামনে আনছেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বহিষ্কার হয়েও কি ছাত্রদলের সঙ্গেই আছেন এই নেতা?
গত বছরের ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল কমিটি দেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা অনেকে পদ পান, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরদিন ৯ তারিখ ৬ জনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয় ছাত্রদল। এদের মধ্যে ছিলেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আল হক শান্ত। ছাত্রদলের বক্তব্য, এসব নেতা তথ্য গোপন করে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছিলেন।
তবে ৫ ফেব্রুয়ারি ফিশারিজ বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শান্ত সিজিপিএ ৪.০০ পেলে তাকে অভিনন্দন জানান ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জর গিফারী ইফাত এই রেজাল্টকে ‘ছাত্রদলের একজনের রেজাল্ট’ বলে শান্তকে অভিনন্দন জানান। অভিযোগ রয়েছে, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আল হক শান্ত অতীতে এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার বাবা আওয়ামী লীগ মনোনীত বগুড়া জেলার নশিপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের পর বাবাকে রক্ষা করার জন্য শান্ত ছাত্রদলে যোগ দেন।
এছাড়াও বহিষ্কারের পরও নিয়মিত ছাত্রদলের প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। ডাকসু নির্বাচনের সময়ও প্রচারণা চালিয়েছেন। যদিও বহিষ্কৃত হলে সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা বেশ অস্বাভাবিক। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনা এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকা ঢাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন বলেন, “সে তো ছাত্রদল করেই, ওকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শুধু। অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। সে পার্টির কাছে আবেদন করেছে, ফলে অব্যাহতি উইথড্র হতে পারে।”