Image description

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর দখলে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির পক্ষে তরুণ সংসদ সদস্য হিসেবে ২০০১ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ।

দলীয় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত সফর করতে হচ্ছে তাকে।

দলীয় ও ব্যক্তিগত জরিপের ভিত্তিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারা দেশে অন্তত ২৫০টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও নির্বাচনী প্রস্তুতি, এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। কালের কণ্ঠ ডিজিটালের উত্তরাঞ্চল ইনচার্জ সোহেল রানা স্বপ্নের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

কালের কণ্ঠ : বিগত সময়ে এই অঞ্চলে একাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।

নির্বাচনী এলাকায় কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

 

মিল্লাত : আমি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলাম। এরপর আর আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে এই আসনে দুইবার সংসদ সদস্য ও একবার মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। জনগণের সঙ্গে তাদের তেমন কোনো যোগাযোগও ছিল না।

কারণ, তারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি। মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে পরিণতি কী হয়, সেটাই আমরা দেখেছি।

 

এখন আল্লাহ আমাদের নতুন করে সুযোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন রূপরেখা নিয়ে সারা দেশে কাজ করছে। আমি নির্বাচিত হলে গত ১৭ বছরে যে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করব।

এটাই মানুষের কাছে আমার অঙ্গীকার। দলীয় জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সারা দেশে প্রায় ২৫০টি আসনে জয় পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

কালের কণ্ঠ : বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ এলাকার প্রধান সমস্যা কী?

মিল্লাত : এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন। বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে জমি ও বসতভিটা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। অনেক এলাকায় সড়ক ও ছোট ছোট সেতুর অভাব রয়েছে। সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় সেতুগুলো নির্মাণ করা গেলে মানুষের চলাচল সহজ হবে।

এসব সেতু নির্মাণে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। যথাযথ উদ্যোগের অভাবে এত দিন এসব কাজ হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে দ্রুত এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করব।

কালের কণ্ঠ : আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতকে দেখা হচ্ছে। জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটা আশাবাদী?

মিল্লাত : বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত আমাদের প্রতিপক্ষ। একসময় তারা আমাদের সঙ্গে ছিল, আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গেও ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে থেকে তারা ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছে। এখন তারা রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে বিএনপিই। জনগণ ধানের শীষে ভোট দেবে এবং বিএনপিকে বিজয়ী করবে—এই বিশ্বাস আমাদের আছে।

কালের কণ্ঠ : রৌমারী-রাজিবপুর ও জামালপুর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। আপনি নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?

মিল্লাত : রৌমারী-রাজিবপুর এলাকায় একটি কলেজ রয়েছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এই অঞ্চলটির সঙ্গে আমাদের দলের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ এনে শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা হবে।

কালের কণ্ঠ : ধন্যবাদ।