ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল শুক্রবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি। শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বলরুমে এ ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ইশতেহার প্রকাশ করবে বিএনপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে নির্বাচনী ঘোষণা পেশ করতে যাচ্ছে, এই ইশতেহারে শ্রমিকরা যা চেয়েছে তারচেয়েও বেশি বিএনপি বলবে। সবাই শুধু দ্রব্যমূল্যের কথা বলছে। কিন্তু তাদের যাতায়াত ভাড়া এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত খরচ হয়। আমরা বলবো, আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের যে বৃদ্ধি তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে আমাদের মজুরি।
পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেসময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের হোটেল লেকশোরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত তার উপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জন মানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী নিয়ে আসছে।