Image description

যুবসমাজকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ১৫ লাখ সফল ফ্রিল্যান্সার এবং ৫ লাখ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

ই-ওয়ার্কহাব ও ইউথ টেক ল্যাব স্থাপন
ইশতেহারে বলা হয়েছে, প্রত্যেক উপজেলায় ই-ওয়ার্কহাব ও ‘ইউথ টেক ল্যাব’ স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন, অফলাইন ও হাইব্রিড পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এক কোটি তরুণকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ
আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণ-তরুণীকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের আওতায় থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, গ্রিন টেকনোলজি এবং উদ্যোক্তা দক্ষতা।

‘প্রথমেই চাকরি নয়, প্রথমেই উদ্যোক্তা’ নীতির আলোকে দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দেওয়া হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ
নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নৃ-গোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নারীদের ডিজিটাল কাজ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রত্যন্ত এলাকার তরুণদের জন্য হাইস্পিড ইন্টারনেট, কম্পিউটার, কো-ওয়ার্কিং স্পেস ও ফ্রিল্যান্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

আপওয়ার্ক, ফাইভার ও ফ্রিল্যান্সারের মতো বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসে সরাসরি সংযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক আয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে।

কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতা
তরুণদের সার্বিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বছর শিক্ষিত বেকারদের কর্জে হাসানা হিসেবে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে ‘দক্ষতা বহুমুখীকরণ ফি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং বয়স কোনো বাধা হবে না বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

ক্রীড়া ও শারীরিক সুস্থতায় জোর
ইশতেহারে ক্রীড়াকে সুস্থ জাতি গঠনের সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক মানের ৫০০ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বৃত্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে সহায়তা এবং স্পোর্টস সায়েন্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা, দেশব্যাপী বার্ষিক ট্যালেন্ট হান্ট আয়োজন এবং ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

হাডুডু, কুস্তি ও নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলা হয়েছে।