ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, আমরা প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট করিনি, করেছিলাম ৮ দলীয় সমঝোতা। সমঝোতা ও জোটের মধ্যে পার্থক্য হলো—জোটে একজনকে নেতৃত্বে থাকতে হয়, আর সমঝোতার ভেতরে কোনো একক নেতৃত্ব থাকে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলটির নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর অসৎ আচরণের কারণে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা হয়েছে জানিয়ে মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, এখানে (সমঝোতায়) দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য যে সিদ্ধান্তগুলো আমরা নেব, তা সবাই পরামর্শের ভিত্তিতে নেব। কিন্তু পরে যখন দেখলাম এটাকে জোটের রূপে একটি দল নিয়ে গেছে এবং সেখানে আট দলের বাইরে অন্যান্য দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এটি আমাদের সঙ্গে আগে-পরে আলোচনা না করে এবং সমঝোতার ভেতরে সিদ্ধান্ত না নিয়েই জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে করেছে।
বড় আশা নিয়ে একত্র হয়েছিলাম উল্লেখ করে রেজাউল করীম বলেন, আমরা দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে একত্র হয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম ইসলামের পক্ষে একটি (ভোট) বাক্স আমরা দেব।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, দায় এড়ানোর জন্য ২৮ ডিসেম্বর আমাদের জানানো হলো, অন্যান্য দলগুলোকে তারা অন্তর্ভুক্ত করছে। তখন আমরা বলেছিলাম, আমাদের হয়েছিল সমঝোতা; অন্য দল যদি নিতে হয়, তা আমাদের আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আলোচনার টেবিলে (৮ দল) কিন্তু তাদের বাকি তিন দলের চেহারা দেখিওনি।
জামায়াত মার্কিনদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ তুলে চরমোনাই পীর বলেন, বাংলাদেশের কোনো দলীয় নেতা আজ পর্যন্ত এ দেশে জঙ্গি বা উগ্রবাদী আছে—এ কথা বলেননি। এমন ইতিহাস বাংলাদেশে নেই। কেউ বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করতে চায়নি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, জামায়াতের নায়েবে আমির মার্কিন দূতাবাসে আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।