Image description
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান।

ভোটের প্রচার চলছে পুরোদমে। এবার বিএনপির প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ক্লান্তিহীন প্রচারে কখনও সমালোচনা করছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের, কখনওবা জানাচ্ছেন—ক্ষমতায় গেলে তার দল কী করবে।

গত বৃহস্পতিবার নওগাঁয় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্যকালে কৃষকদের জন্য একটি সুখবর দেন তারেক রহমান। বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার সরকার গঠন করেন, তখন তিনি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি এবার সরকার গঠন করলে যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ পুরোটা মওকুফ করা হবে।’

করিতকর্মা মানুষের দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য আরও এক কাঠি সরেস। তার নির্দেশে তারেক রহমানের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ই-মেইল চলে যায় বিভিন্ন ব্যাংকে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অবশ্য বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

ই-মেইলে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের জরুরি নির্দেশনা অনুসারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ও পল্লী ঋণের মোট আসল, সুদ বা মুনাফা এবং বকেয়া স্থিতির তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

ইংরেজি দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, ‘আমাকে ডিরেক্টর স্যার অর্ডার করেছেন ১০ হাজার টাকার নিচের কৃষিঋণের তথ্য চাইতে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি ব্যাংকগুলোকে ই-মেইল করেছি।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, নির্দেশনা দেওয়া সেই পরিচালকের নাম রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং তিনি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ই-মেইল বার্তা নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন—তাহলে কি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা শতভাগ নিশ্চিত যে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে? নাকি তারা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগেই তাকে প্রধানমন্ত্রী ধরে নিয়ে তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকে দলীয়করণের বাজে প্রভাব অতীতেও দেখা গেছে। ব্যাংক খাত লুট হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনও সহায়ক আবার কখনও দর্শকের ভূমিকা রেখেছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে দুঃখজনক।