নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই আবার তৎপর হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র কারবারিরা। নির্বাচনী মাঠে শক্তি প্রদর্শন বা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র মজুত করেছে অস্ত্রবাজরা। বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের নেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা দেশে নাশকতা চালাতে চায়, তাদের কাছেই বেশি অস্ত্র যাচ্ছে। তবে এসব অস্ত্র কেনাবেচা হয় নগদ টাকায় নয়; পণ্যের বিনিময়ে।
মূলত বিদেশ থেকে এসব অস্ত্র দেশে ঢোকে। ছোট ধরনের অস্ত্র আসে ভারত ও পাকিস্তান থেকে, আর বড় ধরনের অস্ত্র; যেমন এম-১৬ ও একে-৪৭ আসে মিয়ানমার থেকে।
ভারত থেকে আগরতলা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে অস্ত্রের এসব চালান ঢোকে। সীমান্ত পেরিয়ে সেগুলো প্রথমে অস্ত্র কারখানায় যায়, এরপর সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী সন্ত্রাসী বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের হাতে পৌঁছে। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসে পার্বত্য অঞ্চল, নাক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সময় টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্ত্র সরবরাহকারী জানান, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে দেশে সব ধরনের অস্ত্র আসে। একটি অস্ত্র সরবরাহ করতে গড়ে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। পাঁচটির কম অস্ত্র ডেলিভারি দেয়া হয় না, ফলে প্রতি চালানে খরচ দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের উৎস থেকে দেশে আনা পর্যন্ত দুইটি সিন্ডিকেট কাজ করে। সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখানে কাজ করে আরেকটি সিন্ডিকেট। এরপর মূল ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কাজ করে আরও দুটি সিন্ডিকেট।
তবে অস্ত্র আমদানিতে নগদ টাকার লেনদেন হয় না। পণ্যের বিনিময়েই দেশে ঢোকে অস্ত্রের চালান। ভারত থেকে অস্ত্র আনা হয় স্বর্ণের বার কিংবা ইলিশ মাছের বিনিময়ে। আর মিয়ানমার থেকে আসে চাল-ডাল বা আলু-পেঁয়াজের বিনিময়ে। এই কারবার চলে টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে। যেমন-ভারত সীমান্তে অস্ত্র বোঝাতে ব্যবহার হয় ‘ঘোড়া’ মার্কা টোকেন।
অস্ত্র সরবরাহকারী জানান, ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা টোকেন ব্যবহার করা হয়। মসলার ক্ষেত্রে ‘হাতি’ মার্কা টোকেন, আর অস্ত্রের ক্ষেত্রে ‘ঘোড়া’ মার্কা টোকেন ব্যবহৃত হয়।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে অস্ত্র কারবারিরা আরও তৎপর হয়ে উঠেছে। যারা নাশকতা করতে চায়, তারাই এখন তাদের প্রধান গ্রাহক।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের ওই সদস্য জানান, এখন ব্যাপক চাপ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য পাঁচজন লোক বা পাঁচটি অস্ত্র চাওয়া হয়। তবে এর জন্য ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকা না পেলে সরবরাহ করা হয় না।
তিনি আরও বলেন, ছয় মাস আগেই দেশে অস্ত্র মজুত করা হয়েছে। এখনও কিছু চালান আসছে। তবে যাদের প্রয়োজন, তারা আগে থেকেই অস্ত্র সংগ্রহ করে রেখেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে গুলির।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ম্লান হয়ে যেতে পারে গণতান্ত্রিক ভোট উৎসব।