ফের একই ধরনের গ্রেডিং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর এই পরিকল্পনা চলছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া শিক্ষা আইনে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনের নবম অধ্যায়ের ৩১ নম্বর পয়েন্টে ‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সকল শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতিতে হইবে।’
এর আগে ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একক গ্রেডিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। তবে বিভিন্ন বাস্তব ও নীতিগত জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার খসড়া শিক্ষা আইনের মাধ্যমে বিষয়টিকে নীতিগত কাঠামোর আওতায় এনে বাস্তবায়নের পথ সুগম করার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইউজিসি প্রণীত গ্রেডিং পদ্ধতিতে দেখা যায়, ৮০ বা এর বেশি নম্বর পেলে একজন শিক্ষার্থীকে ‘এ-প্লাস’ বা সিজিপিএ-৪ দেওয়ার কথা। ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর পেলে তা ‘এ রেগুলার’ বা সিজিপিএ-৩ দশমিক ৭৫ এবং ৭০ থেকে ৭৪ পেলে ‘এ মাইনাস’ বা সিজিপিএ-৩ দশমিক ৫ পাবে। ৬৫ থেকে ৬৯ এর জন্য ‘বি প্লাস’ বা সিজিপিএ-৩ দশমিক ২৫,৬০ থেকে ৬৪ এর কম পেলে তা ‘বি রেগুলার’ বা সিজিপিএ-৩ হিসেবে শনাক্ত করা হবে।
একইভাবে ৫৫ থেকে ৫৯ এর জন্য ‘বি মাইনাস’ বা সিজিপিএ-২ দশমিক ৭৫; ৫০ থেকে ৫৪-এর জন্য ‘সি প্লাস’ বা সিজিপিএ-২ দশমিক ৫ দেওয়া হবে। এরপর ৪৫ থেকে ৪৯ পেলে তা ‘সি রেগুলার’ বা সিজিপিএ-২ দশমিক ২৫; ৪০ থেকে ৪৪ পেলে ‘ডি’ বা সিজিপিএ-২ দেওয়ার কথা। ৪০-এর কম হলে ‘এফ’ বা অকৃতকার্য দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে ইউজিসির।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ৮০ শতাংশ নম্বর পেলে শিক্ষার্থীরা ‘এ প্লাস’ বা সিজিপিএ ৪ দেওয়া হয়; সেখানে একই পরিমাণ নম্বর পেয়ে বড় বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিজিপিএ ৪ দেওয়া হয় না। বড় আট-দশটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০ শতাংশ নম্বর পেলেই সিজিপিএ ৪ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশের কম নম্বর পেলে অকৃতকার্য দেখানো হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০০৬ সালে একটি অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি প্রণয়ন করে তা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সে সময় সব সরকারি এবং অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ নির্দেশনা মানছে না। তাদেরকেও অভিন্ন গ্রেডিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত নতুন শিক্ষা আইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।