আজ খুলনা নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনতা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে এতে নেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে প্রায় কর্মকর্তা শূণ্য দপ্তর দেখা যায়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে সৃষ্ট এমন শূণ্যতায় দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের চিত্র কিছুটা পরিবর্তিত হলেও দুপুরের আগ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তাদের তেমন উপস্থিতি ছিল না। ঊর্ধ্বতন শিক্ষক-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মচারীদের বড় একটি অংশও নিজ নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০–এর ৫১(২) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতবাদ পোষণে স্বাধীন হলেও সেই মতবাদ প্রচার করতে পারেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।
তারেক রহমানের জনসভা সংশ্লিষ্ট এলাকার আশপাশে বসবাসরত কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সকালে দপ্তরে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একাধিক ব্যক্তির কাছে দপ্তর ফাঁকা কেন জানতে চাইলে তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তারেক রহমানের জনসভায় গিয়েছেন বলে জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল থেকে দপ্তরে এসেও কাজ করতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় আমাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেট শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি বিএনপির সমাবেশস্থলে গিয়েছিলেন। তবে উদ্দেশ্য ছিল ট্রেজারারের বাসায় দাওয়াতে অংশগ্রহণ। যেহেতু ট্রেজারার স্যারের বাসার পাশেই সমাবেশস্থল তাই খাওয়া দাওয়ার পর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখেন।
তবে তার এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুর উন নবী বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার বাসায় কোনো দাওয়াতের আয়োজন ছিল না।
অন্যদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সময়ে নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সচিব বলেন, আমার মেয়ে ওখানে পড়াশোনা করে তার সাথে দেখা করতে যাওয়া ছিল মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুর উন নবী বলেন, আমার বাসা খালিশপুর এলাকায় এবং সমাবেশস্থল থেকে পাশেই । সে কারণে আলাদাভাবে সেখানে যাওয়ার প্রশ্ন আসে না।
বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না সে বিষয়ে তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার বাসায় কোনো দাওয়াতের আয়োজন ছিল না।
সমাবেশের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকা এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ- এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, স্লোগান দেওয়া কিংবা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে এনে বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে উপস্থিত হওয়াকে প্রচারণার আওতায় গণ্য করা হয় না। সুতরাং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সঙ্গে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়।
এদিকে ওমরাহ হজ্জের জন্য আগামী ৬ তারিখ পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। এর ফলে তারেক রহমানের জনসভায় শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপস্থিতি বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।