Image description

গণভোটকে ঘিরে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহের একটি ফেসবুক পোস্টে দেওয়া মন্তব্যকে অপব্যাখ্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে প্রেস উইং। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে প্রেস উইং তাদের ফেসবুক পেজে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আসিফ সালেহ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এই গণভোটের মাধ্যমে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার বিষয়েও ভোট দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দাবি সত্য নয়। কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করা হবে কি না—এটি গণভোটের অংশ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোটের ব্যালোটে ৪টি বিষয় থাকা ও জুলাই জাতীয় সনদে ৮৪টি সংস্কার থাকাকে আসিফ সালেহ “চালাকি” বলেছেন। কিন্তু জুলাই সনদে উল্লিখিত সকল সংস্কার নিয়ে নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হচ্ছে। এই প্রস্তাবগুলোকেই সংক্ষেপে গণভোটের ব্যালোটে উপস্থাপন করা হবে।

জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রস্তাবগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোকে “ক” অংশে রাখা হয়েছে, বাকিগুলোকে “খ” অংশে।

ক. সংবিধান সংস্কারের সাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে ৪৭টি প্রস্তাব রয়েছে।

খ. আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে প্রস্তাব রয়েছে ৩৭টি।

গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৭টি প্রস্তাবের ওপর। আসিফ সালেহ “কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার” যে উদাহরণ দিয়েছেন, তা জুলাই সনদের ৬৮ নম্বর প্রস্তাবে আছে। কিন্তু এটি সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের সাথে সম্পর্কিত। ফলে এটি গণভোটের অংশ নয়।

একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। জুলাই সনদে বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব আছে। যেগুলো সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলোকে সনদের “ক” অংশে রাখা হয়েছে। যেমন, বিভাগ বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ। আবার কিছু প্রস্তাব “খ” অংশে রাখা হয়েছে, যেমন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এর মধ্যে কেবল “ক” অংশের প্রস্তাবগুলো গণভোটের অংশ, “খ” অংশের প্রস্তাবগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, গণভোটের মূল প্রশ্নটি হবে, ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’ এই প্রশ্ন থেকেও স্পষ্ট যে কেবল “সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত” প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ গণভোট নিয়ে যে প্রচারণা চালিয়েছেন, তা অপব্যাখ্যামাত্র।