Image description

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আওয়ামী লীগের এক মাদক ব্যবসায়ীকে জামায়াত কর্মী দাবি করে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বিএনপির কর্মী বানানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ (বাচ্চু মোল্লা)-এর বিরুদ্ধে। রোববার উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মহাম্মদপুর-ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

বিএনপিতে যোগ দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম আসাদুল হক। তিনি একই এলাকার মো. ফজুর ছেলে।

রোববার দুপুরে নামের BNP Daulatpur, Kustia একটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আসাদুল হক দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহাম্মেদ (বাচ্চু মোল্লা)-এর হাত ধরে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, আসাদুল জিন্সের প্যান্ট পরে খালি গায়ে বসে আছেন। তার সামনে থাকা বালতি থেকে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহীদ সরকার মঙ্গল মগে করে দুধ তুলে পাশে দাঁড়ানো বিএনপি প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ (বাচ্চু মোল্লা)-এর হাতে দিচ্ছেন। পরে সেই দুধ দিয়ে রেজা আহাম্মেদ আসাদুলকে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল হক দৌলতপুর উপজেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তিনি পলাতক দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেও অভিযোগ রয়েছে। চরের বালু-মাটিতে মোটরসাইকেল চালনায় পারদর্শী আসাদুলের মোটরসাইকেলে চড়ে গত উপজেলা নির্বাচনে চরাঞ্চলে ভোট করেছেন টোকেন চৌধুরী—এমন তথ্যও উঠে এসেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে আমার দেশকে বলেন, “২০১৬ সালে আসাদুল আমার ভোটও করেছে।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে দলটির প্রার্থী বেলাল উদ্দীন বলেন, “সে কর্মী তো দূরের কথা, আমাদের সমর্থকও না। ফেসবুকের ভিডিও দেখে তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে অন্য দলের সমর্থক। এই ঘটনা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছাড়া কিছুই না।”

 

মহাম্মদপুর-ভাঙ্গাপাড়া এলাকার মো. ফজুর ছেলে আসাদুলের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে জানতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এভাবে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। আপনি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করুন, এরপর তথ্য পাবেন।”