বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েছে বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
অভিযোগ উঠেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের গাড়ি থেকে আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুতকাঠী বন্দরে ঘটনা ঘটে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইয়াসির আরাফাত ওরফে সোহেল কাজীকে আটক করে বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পরে আটককৃত সোহেল কাজীকে ডিবি পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় হঠাৎ স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করে। এক পর্যায়ে যুবদল নেতা রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে একটি দল ডিবি পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ওই যুবদল নেতার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের এসআই রেদোয়ান বলেন, রাহুতকাঠিতে একটি ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা আনোয়ার বলেন, অভিযান টিম মাঠে রয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জানি না।
একই কথা বলেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল কাজী বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংগঠনটির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এ ঘটনায় যুবদল নেতা রাকিবুল হাসান খান রাকিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা প্রদান এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।