Aminul Islam (আমিনুল ইসলাম)
তারেক রহমান সাহেবের সমাবেশগুলোতে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা উনার সাথে দেখা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন! এতে বার্তাটা আসলে কী যাচ্ছে?
আপনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আপনি রাজনীতি করতেই পারেন। কোন একটা দলকে আপনার ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু দল দাস হতে হবে কেন? আপনার কাজ তো হবে পছন্দের দলটাকে পরামর্শ দেয়া। ভুল ধরিয়ে দেয়া। সেটা না করে একজন ব্যক্তির সাথে দেখা করা, ছবি তোলার জন্য কেন আপনাকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হচ্ছে?
এর মানে হচ্ছে- আপনি নিজের ফায়দা লুটতে চান। দলীয় পরিচয়ে পদ-পদবী পেতে চান। তাহলে বদলালোটা কী আসলে? তারেক রহমান সাহেবের নিজেরই তো উচিত এ বিষয়ে বার্তা দেয়া। কারন এইসব দেখে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
আপনি সমাবেশগুলোতে যেভাবে বক্তব্য রাখছেন। এটা একটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বক্তব্য দেয়ার যে রেওয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে আছে। আপনি এ থেকে বের হয়ে অনেকটা স্বাভাবিক গলায় কথা বলছেন এবং কমিউনিকেট করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আপনি যা যা করছেন। আপনার দলের নেতা-কর্মীরা কি আদৌ এর কোন বাস্তব প্রতিফলন দেখাতে পেরেছে?
মিডিয়াগুলো সেই আগের মত দাসত্ব করছে। সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীরা নেমে পড়েছে গোলামী করতে। সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা যাচ্ছে- আপনি বলছেন একটা। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে আরেকটা। আর এ থেকেই মানুষের মাঝে অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। ভোটের সময় এর প্রতিফলন কিন্তু দেখতে পাবেন আপনি।
তাছাড়া বড় বড় সমাবেশ তো করছেন। কিন্তু ভেতরের খবর কি আছে আপনার কাছে? আমাদের বাসায় এর মাঝে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তিনবার এসেছে। তৃতীয়বার আমার বোন আর যেতেই চায় নাই গেটের সামনে। কিন্তু এই মহিলা কর্মীদের ধৈর্য এত বেশি! এরা দাঁড়িয়েই ছিল না যাওয়া পর্যন্ত! দূর থেকে এদের কথা শুনে মনে হয়েছে- এদেরকে অনেক সময় ধরে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে।
আর আপনার দলের কর্মীরা এখন পর্যন্ত একবারও আসতে পারে নাই! গতকাল শেষমেশ এসেছিল। আমার বোন উচ্ছ্বাসের সাথে বলেছে- যাক এসেছে। যাই দেখি কী বলে। গেটের সামনে যেতে যেতেই ওই কর্মীরা অধৈর্য হয়ে চলে গেছে! একটা কাগজ ফেলে রেখে গেছে। আমার বোন এরপর বলেছে
- জামায়াতের কর্মীদের কাছে যেতে চাইলাম না। এরা এরপরও দাঁড়িয়ে থেকেছে কয়েক মিনিট। কত সুন্দর করে কথা বলছে। আর বিএনপির এই কর্মীদের কাছে আমি যেতে না যেতেই ওরা চলে গেছে!
আমার বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ শিক্ষিত মানুষ। ওকে হয়ত এত সহজে চাইলেও ভিন্ন মতাদর্শে নেয়া যাবে না। কিন্তু এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ এমন আচরণ দেখলে বলবে- ধ্যাত, দরকার নাই এই দলটাকে ভোট দেয়ার। এদের আচরণই তো ঠিক নাই! আর জামায়েতের মহিলা কর্মীদের কথা বলার ধরণ দেখেছেন? যে কেউ কনভিন্স হয়ে যাবে!
এবার আসি বাস্তব চিত্রে। বড় বড় সমাবেশ আর চারদিকে ব্যানার-পোস্টার লাগিয়ে যদি ভাবেন- আপনারা এগিয়ে আছেন। ভুল করবেন। একটা উদাহরণ দেই। পরশু গিয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুরো কলা ভবনের সকল জায়গায় ছাত্রদল বেগম খালেদা জিয়া আর আপনার ছবি টানিয়ে রেখেছে। সেখানে হাঁটলে মনে হবে- দেশে বিএনপি ছাড়া আর কোন দল নাই। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন?
আমরা সবাই জানি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিবিরের আস্তানা। সেখানে শিবির যেভাবে জিতেছে; এটা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। আপনাদের দল দাস বুদ্ধিজীবীরা তখনও বলছে- শিবির পারবে না। অথচ আমরা ছয় মাস আগেই বলে দিয়েছিলাম- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবির জিততে চলেছে। শুনেছেন?
এবার আসি শেষ কথায়। শেরপুরে দুই দিন আগে জামায়াতের এক নেতাকে মারা হলো। সেই ঘটনায় পুরো বাংলাদেশের জামায়াতের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। দেখেছেন নিশ্চয়?
আর গতকালই , হ্যাঁ গতকালই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এই মানুষটা তো আপনার দলই করতো? হয়েছে এর কোন প্রতিবাদ? শুধু নিজ দলের মাঝে সংঘর্ষে না। এই যে যুবদলের এক নেতাকে হ*ত্যা করা হলো। হয়েছে তেমন কোন প্রতিবাদ?
তাহলে বার্তাটা কী যাচ্ছে? আপনার দলের কর্মীদের জীবনের মূল্য স্রেফ বেঁচে থাকা অবস্থাতেই আছে। কারন সেখানে শক্তি দেখানোর ব্যাপার আছে। মরে গেলে প্রতিবাদটুকুও করছেন না। আর দুই গ্রুপে সংঘর্ষ কেন হয়? দুই দিন পর পরই দেখি গ্রুপে গ্রুপে মারামারি। মানুষ কি এইসব দেখছে না? আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পায়।
স্বার্থ ছাড়া আর কোন কারনে দুই গ্রুপে মারামারি হতে পারে? আপনারা যাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা এই রকম মারামারি করছে? এখন তো বলবেন আমরা বড় দল। এই জন্য এমন হয়। বড় দল হলেই নিজেরা নিজেরা মারামারি করতে হবে? তাহলে বদলালো কী আর?
আপনি স্টেজে উঠে চমৎকার করে কথা বলছেন। নতুন দিনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। আর আপনার দলের বুদ্ধিজীবীরা করছে দাসত্ব। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রচারণাটাও করছে না ঠিক মত। দাঁড়ানোর সময় পাচ্ছে না। কাগজ ছুড়ে মেরে চলে যাচ্ছে। আর অন্যরা করছে মারামারি। তো কোন দুঃখে মানুষ আস্থা রাখবে দলটার প্রতি?
আপনি যদি এই দলটার স্থানীয় পর্যায়ে গ্রুপিং, টাকার বিনিময়ে কমিটি দেয়া, এদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীদের নোংরামি টেনে ধরতে না পারেন। ভোটের মাঠে কিন্তু এর ফলাফল আপনি পাবেন। এই প্রজন্ম আর পেছনে ফিরতে চায় না।
এটা মনে রাখবেন- শুধু কথায় আর চিড়ে ভিজবে না এই জনপদে। মানুষ বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখতে চায়। কারন এই দেশের মানুষ অনেক বার প্রতারিত হয়েছে। আর হতে চায় না। তাই শুধরান।