ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে প্রবাসীর পাঠানো ১০ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত এক লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রিকাবীবাজারের সিটি ব্যাংক থেকে প্রবাসী কাইয়ুম খানের পাঠানো ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তাঁর ভায়রা শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা (৩৮)।
পরে তিনি তাঁর স্ত্রী ও প্রবাসীর বোন হালিমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত মিশুকে করে টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সেরাজাবাদের দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে আলদি-সেরাজাবাদ পাকা সড়কের ঋষিবাড়ি ব্রিজের উত্তর পাশে পৌঁছালে মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে এসে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় হালিমা বেগম বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে। ২৯ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা (৩৮), খোকন হালদার (৩২) ও ইকবাল হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়।
পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী শাহজালাল হালদার নিজেই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। দুই সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি ছিনতাইয়ের নাটক সাজান এবং ঘটনাস্থলে কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে সহজেই টাকার ব্যাগ ছেড়ে দেন। পরে তারা তিনজন মিলে টাকা ভাগ করে নেন। ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি টাকার অবস্থান শনাক্ত হয়েছে এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।