Image description
আদালতে গুলশান থানার আবেদন

গুলশান থানায় ঢোকার মুখে অবহেলায় পড়ে থাকা দামি পাজেরো গাড়ি আগন্তুকদের নজর কাড়ছে। গাঢ় নীল রংয়ের ব্র্যান্ডনিউ গাড়িটি টয়োটার তৈরি পাজেরো ল্যান্ডক্রুজার ভিএইট (জেডএক্স) মডেলের। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ধুলোর আস্তরে ঢেকে গেছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা দামের রাজকীয় গাড়িটি এভাবে রাস্তায় অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে উৎসুক জনতার কৌতূহল বেশি। গাড়িটির মালিক কে-জানতে চেয়ে থানা ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে কেউ কেউ প্রশ্নও করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ গাড়ির মালিক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা সরকারের পতন হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটিও লুকিয়ে রাখা হয়। তবে বেশি দিন তিনি পালিয়ে থাকতে পারেননি। সরকার পতনের আট দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হাসিনা সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ছদ্মবেশ ধারণ করে একসঙ্গে নৌপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিধি বাম। দুজনে ওইদিন সন্ধ্যায় নৌকার মধ্যে ধরা পড়ে যান কোস্ট গার্ড সদস্যদের হাতে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

Logo
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

শেষ পাতা

আদালতে গুলশান থানার আবেদন

সাবেক মন্ত্রীর গাড়ি ব্যবহার করতে চায় পুলিশ

 

 
Icon
 

তোহুর আহমদ ও মহিউদ্দিন খান রিফাত

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
messenger sharing button
print sharing button
copy sharing button
সাবেক মন্ত্রীর গাড়ি ব্যবহার করতে চায় পুলিশ
 
 
 
Remaining Time 8:34
 

গুলশান থানায় ঢোকার মুখে অবহেলায় পড়ে থাকা দামি পাজেরো গাড়ি আগন্তুকদের নজর কাড়ছে। গাঢ় নীল রংয়ের ব্র্যান্ডনিউ গাড়িটি টয়োটার তৈরি পাজেরো ল্যান্ডক্রুজার ভিএইট (জেডএক্স) মডেলের। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ধুলোর আস্তরে ঢেকে গেছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা দামের রাজকীয় গাড়িটি এভাবে রাস্তায় অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে উৎসুক জনতার কৌতূহল বেশি। গাড়িটির মালিক কে-জানতে চেয়ে থানা ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে কেউ কেউ প্রশ্নও করছেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ গাড়ির মালিক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা সরকারের পতন হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটিও লুকিয়ে রাখা হয়। তবে বেশি দিন তিনি পালিয়ে থাকতে পারেননি। সরকার পতনের আট দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হাসিনা সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ছদ্মবেশ ধারণ করে একসঙ্গে নৌপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিধি বাম। দুজনে ওইদিন সন্ধ্যায় নৌকার মধ্যে ধরা পড়ে যান কোস্ট গার্ড সদস্যদের হাতে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সাবেক এক মন্ত্রীর দামি গাড়ি ইউনাইটেড হাসপাতালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে-এমন খবর পেয়ে ওই বছর ১৬ সেপ্টেম্বর (২০২৪ সালে) অভিযান চালানো হয়। এরপর হাসপাতালের বেইজমেন্ট পার্কিং থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয় (ঢাকা মেট্রো ঘ ২১-৯৬৩৯)। কিন্তু দরজা লক থাকায় সে সময় গাড়িটি সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে গাড়িটি বেশ কিছুদিন ইউনাইটেড হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মায় রাখা হয়।

সূত্র জানায়, গাড়ি উদ্ধারের পর মালিকানা যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএতে চিঠি দেয় পুলিশ। জবাবে জানানো হয়, গাড়িটি ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আনিসুল হকের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে। এমপি কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় সম্পূর্ণ ব্র্যান্ডনিউ অবস্থায় গাড়িটি আমদানি করা হয়।

বুধবার বিকালে সরেজমিন গুলশান থানার সামনে গিয়ে দেখা যায়, ধুলোয় ঢেকে যাওয়ায় এখন গাড়ির আসল রং ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না। সামনে এবং পেছনের দুটি চাকা বসে গেছে। ধুলোর আস্তরের ওপর গাড়ির গায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে কেউ কেউ নানা ধরনের রাজনৈতিক স্লোগানও লিখে রেখেছেন।

পুলিশ জানায়, সাবেক মন্ত্রীর অভিজাত গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় গুলশান থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মশিউর রহমান একটি জিডি (সাধারণ ডায়রি) করেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর লক ভেঙে গুলশানা থানা চত্বরে গাড়ি টেনে আনা হয়। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে পুলিশের ব্যবহৃত দুটি ওয়াকিটকি, ট্যাক্সটোকেন, রেজিস্ট্রেশন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের বেশকিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

ব্যবহারে আবেদন : জিম্মায় নেওয়ার পরপরই গাড়িটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার তৎকালীন ওসি তৌহিদুর রহমানের আবেদনে বলা হয়, উদ্ধারকৃত একটি ল্যান্ডক্রুজার পাজেরো জিপ থানা কম্পাউন্ডে খোলা আকাশের নিচে রাখা আছে। চাহিদার তুলনায় ডিএমপি’র গাড়ির সংখ্যা কম। এ ধরনের জব্দকৃত গাড়ি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সরকারি কাজে ব্যবহারে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র রয়েছে। গাড়িটি ব্যবহারের অনুমতি দিলে পুলিশের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং গাড়িও সচল থাকবে।

ওয়াকিটকি : গাড়িটি উদ্ধারের পর ভেতরে পাওয়া দুটি ওয়াকিটকির বিষয়ে তদন্ত করা হয়। একপর্যায়ে জানা যায়, দুটি ওয়াকিটকি পুলিশের ব্যবহৃত। সাবেক আইনমন্ত্রীর গানম্যান হিসাবে নিযুক্ত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নার নামে এ দুটি বেতারযন্ত্র ইস্যু করা হয়েছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে ওয়াকিটকি দুটি ফের মোহাম্মদ আলীর জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আনিসুল হকের গাড়ি এবং ওয়াকিটকি সম্পর্কে জানতে চাইলে কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার সময় ৫ আগস্ট সকালে তিনি অন্যদিনের মতো দায়িত্ব পালন করতে সাবেক আইনমন্ত্রীর বাসায় যান। কিন্তু মন্ত্রী তাকে ডিউটি না করে সেদিন চলে যেতে বলেন। এরপর তিনি ওয়াকিটকি দুটি মন্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়িতে রেখেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে গুলশান থানা পুলিশ কর্তৃক ওয়াকিটকি উদ্ধারের কথা জানতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক আইনমন্ত্রীর গাড়ি ব্যবহারে পুলিশ আবেদন করলেও কোটি টাকা মূল্যের এ ধরনের গাড়ি পুলিশ বাহিনীতে ব্যবহার করা হয় না। এমনকি বাহিনীপ্রধান হিসাবে আইজিপিকে দেওয়া সরকারি গাড়িও ল্যান্ডক্রুজার পাজেরো নয়। ফলে ব্যবহারের অনুমোদন পেলেও পুলিশের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার অনুকূলে গাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।