জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্মের ব্যবহার তথা বেহেশতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ গত সাত দিন আলোচনায় সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে। বিএনপি এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, বেহেশতের টিকিট মানুষ দিতে পারে না, একমাত্র আল্লাহ দিতে পারেন। টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি বক্তব্যে তারেক রহমান এবং বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের কার্ড খেলছে বলেও আলোচনায় স্থান পায়। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল সম্পর্কে নতুন করে জানার নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষ জেনেছে।
এছাড়া বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের দুর্নীতির অভিযোগ তোলার বিষয়টিও দুই দলের বাক্যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। জামাতের আমির ২৪ জানুয়ারি এক সমাবেশে বলেন, একটি দল দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর জবাবে তারেক রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, পুরো পাঁচ বছর তাদের (জামায়াতের) দলের দুজন মন্ত্রী সরকারে থাকলেও তারা পদত্যাগ করেননি কেন। এছাড়া কেউ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধাতে হলে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে জামায়াতের আমিরের দেওয়া বক্তব্যে রাজনীতিতে কিছুটা উত্তাপ ছড়ায়। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান দলটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একটি দল স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করছে। গত সাত দিনে এসব বক্তব্যের বাইরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বেশ আলোচিত-সমালোচিত হয়। ওই ঘটনার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আঘাত হলে পালটা আঘাত করা হবে।
প্রচারণা শুরুর পর গত সাত দিনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে পৃথকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এর মধ্যে বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড এবং জামায়াতের ধর্মের ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দলগুলো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলো বাস্তাবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বেশির ভাগ দলেরই নেই। তাদের মতে, তরুণ ভোটারদের আগ্রহী করতে নীতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পথ থাকা দরকার ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এমনকি রাজস্ব নিয়ে আলাদা-আলাদা প্রতিশ্রুতি থাকলেও এগুলো বাস্তবায়নের কোনো কাঠামো নেই। বিএনপি বলেছে, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ ভাগ বরাদ্দ দেবে। জামায়াত সঙ্গে সঙ্গে বলেছে আমরা ৬ থেকে ৮ ভাগ বরাদ্দ দেব। কিন্তু কোথা থেকে এই টাকা আনবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলেনি। আবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণার ধরনের ব্যাপক ফারাক দেখছি। অর্থনৈতিক বঞ্চনা কমাতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। সে বিষয়ে বিএনপি কিছু বলেনি। জামায়াতও কিছু বলেনি। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটা বড় চাওয়া ছিল প্রশাসনিক সংস্কার, পুলিশি সংস্কার এবং আমলাতান্ত্রিক সংস্কার। ভূমি অফিস, ডিসি অফিস, পাসপোর্ট অফিস যেভাবে চলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে চলছে, বাংলাদেশের মানুষ এগুলোর পরিবর্তন চায়, জুলাইয়ে চেয়েছিল। কিন্তু সেসব বিষয়ে পরিবর্তন ঘটবে-এমন কোনো কর্মসূচি এখন পর্যন্ত বিএনপি বা জামায়াত দিতে পারেনি।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুলকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রচারণার প্রথম সাত দিনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭টি জনসভায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া একটি জনসভায় তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সাত দিনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি নির্বাচনি জনসভা করেছেন। এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দলও বেশ কয়েকটি পথসভা ও জনসভা করেছে।
দলগুলোর প্রধানদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান, ধর্মীয় নেতাদের সেবাসহ নানা বিষয়ে পরিকল্পার কথা জানিয়েছে বিএনপি। এছাড়া নতুন করে খাল খনন, অপরাধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। যানজট নিরসনে ঢাকার বাইরে ‘স্যাটেলাইট শহর’, শিশুদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা, প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে মনোরেল স্থাপন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, ভূমিহীনদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা, ব্লক বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যুবক ও বেকারদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ আরও নানা পরিকল্পনাও জানিয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। দলটি বলছে, বেকারদের শুধু বেকার ভাতা নয়, দেশ গড়ার কারিগর হিসাবে গড়ে তোলা হবে। নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় মহিলাদের জন্য বড় শহরগুলোয় ইভিনিং বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বন্ধ কলকারখানা চালু করার পাশাপাশি নতুন করে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনসহ আরও বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
প্রতিশ্রুতিতে পিছিয়ে নেই এনসিপিও। নতুন গঠিত এ দলটিও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ, নতুন শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিএনপি : ক্ষমতায় গেলে বিএনপির পরিকল্পনা কি গত সাত দিনের প্রচারণায় সেগুলো তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান, ধর্মীয় নেতাদের সেবাসহ নানা বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া নতুন করে খাল খনন, অপরাধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে পথচলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনসহ আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ঢাকার বাইরে ‘স্যাটেলাইট শহর’, শিশুদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা, প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। মনোরেল, বস্তিবাসীর জন্য পুনর্বাসন, ভূমিহীনদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা, ব্লক বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যুবক ও বেকারদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। ক্ষমতায় গেলে নিঝুম দ্বীপকে একটি আধুনিক পর্যটন অঞ্চলে রূপান্তর, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপদে চাকরি, নিরাপদে রাস্তায় হাঁটার অধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া যেসব এলাকায় জনসভা হয়েছে, সেসব এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও হাসপাতালের উন্নয়ন করাসহ নানা সমাস্যার সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এসব প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি জনসভায় একটি দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যারা বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভোট চাইছেন, তারা নিজেরা শিরক করছেন, ভোটারদেরও ঠকাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, দলটি সম্পর্কে নতুন করে জানার কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষ জানে।
জামায়াত : গত সাত দিনের বক্তব্যে সব ধরনের বৈষম্য দূর করে মানবিক বাংলাদেশ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। বেকারদের শুধু বেকার ভাতা নয়, দেশ গড়ার কারিগর হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। বলেছে, নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় মহিলাদের জন্য বড় শহরগুলোয় ইভিনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে। নারী সমাজের অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বন্ধ কলকারখানা চালু করা হবে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেছেন, নতুন করে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করা হবে। সর্বত্র কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি, মিরপুরের রাস্তাগুলোর পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার, মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, দেশকে চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেটমুক্ত করাসহ সব গুম-খুনের নিরপেক্ষ বিচার করা হবে। এছাড়া যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তোলা ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, কেউ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে এলে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সমান ওজনের হিসাবনিকাশ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গে জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেখানে গাইবান্ধা জেলাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক রাজধানী করতে চাই। এখানে ইপিজেড করতে চাই। মরা নদীগুলোকে সচল করতে চাই। নদীগুলো সচল হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে।
আরেক জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে কেউ কেউ বাঁকা পথ অবলম্বনের চেষ্টা করছে। যদি এমন কেউ বাঁকা অন্ধকার পথে যেতে চান, তাহলে জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে যায়নি। ভোটের বাক্সে হাত দিলে সেই হাত ভেঙে দেওয়া হবে। জনগণকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানে বাধা দিলে আগুন জ্বলবে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের ধরতে বিশেষ অ্যাপ চালু করা হবে। সেই অ্যাপের তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতি ৬ মাস পর জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের সব নদী, খালবিল রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের বছরে চারবার নদী ও খালবিলে গোসল করানো হবে। কোনো সংসদ-সদস্য, মেয়র, কমিশনার, চেয়ারম্যান বা মেম্বার ক্ষমতার প্রভাবে নদী, খালবিল দখল করতে পারবেন না এবং ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করতে পারবেন না। যদি করেন, তাকে ময়লার ভাগাড়েই গোসল করতে হবে।
এনসিপি : এনসিপি জোটগতভাবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বর্তমান ‘মুজিববাদী’ সংবিধান বাতিল করে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন এবং ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মধ্যে বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত ও সেবামুখী হিসাবে গড়ে তোলার কথা বলেছে দলটি। এছাড়া গ্রাম সংসদ এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি। শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য শস্যবিমা, কৃষি ভর্তুকি এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি সংস্কার ও স্থায়ী লেবার কমিশন গঠন করা হবে জানিয়েছে দলটি। জনকল্যাণে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষানীতিতে গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেছে। দলটি জানিয়েছে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বেকারত্ব দূরী করার কথা উল্লেখ করে নতুন শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার কথা জানিয়েছে এনসিপি। দলটি বলেছে, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের মেধাবীদের কাজে লাগানো হবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপে বাধা দিয়ে সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এছাড়া প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে মাদক ও চাঁদাবাজি মুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে যাচ্ছেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে তারেক রহমানের এমন একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে এক সমাবেশে বলেছেন, তাহাজ্জুদের পরেই তারা সিল মারার পরিকল্পনা করছে। ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা এসব ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন।