নির্বাচন সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে অন্তত দুটি আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) ও কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। স্থানীয় রাজনীতিতে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম খান ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি দলের মধ্যে কিছু নেতার ষড়যন্ত্রকে দায়ী করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে, এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান, শহরের যানজট নিরসনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মনোনয়ন নিয়ে বঞ্চনার মুখে পড়েছেন। সবশেষ এই নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তিনি হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, আমার সমর্থকদের চাপে আমাকে প্রার্থী হতে হয়েছে। কারণ তারাই আমার শক্তি ও সাহস। তাদের সমর্থন নিয়ে এতটা পথ এসেছি আমি। এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি জয়ী হব।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত ২২ ডিসেম্বর নিজের দল বিলুপ্ত করে তিনি নিজে ও দলের সদস্যদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে স্থানীয় বিএনপিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। তিনি বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের এক ছাতার নিচে আনতে পারেননি।
সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে কোথাও কোথাও কিছুটা বিভক্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত এটা থাকবে না। যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।
এদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলায় বিএনপির ১৭ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শীর্ষ পদধারীরাও রয়েছেন।
রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এই দুই আসনে পুরনো ও পরিচিত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাদের অনেক কর্মী-সমর্থক ও ভোটার রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলের মূল প্রার্থীকে যথেষ্ট ভোগাবে। এতে ভোট ভাগাভাগির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই দলীয় প্রার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে আছেন। এই দুই আসনে নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপির প্রার্থীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।