Image description

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটওয়ারীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী মহিলা টিমের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা ও হেনস্থা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড (দক্ষিণ ভাটরা) এলাকায় আব্দুর রহমান শেখের বাড়িতে হাতপাখার মহিলা টিম শান্তিপূর্ণভাবে লিফলেট বিতরণকালে তাদের ওপর বাধা ও হেনস্থার ঘটনা ঘটে। বিএনপির ৪নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি ইউসুফ মোল্লা, ইমন শেখ ও তার ভাই সবুজ শেখ এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

লিফলেট বিতরণকালে মহিলা কর্মীদের হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলা হয়, অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক পর্যায়ে হাতপাখার সম্ভ্রান্ত পর্দানশীন নারী কর্মীদের একটি কক্ষে আবদ্ধ করে রাখা হয়। এ ঘটনায় তারা চরম বিব্রত, আতঙ্কিত ও অপমানের শিকার হন।

ঘটনাটিকে বর্বর আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটওয়ারী গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আমার নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি, বাধা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, পর্দানশীন নারীদের এভাবে হেনস্থা করা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, এটি নারীর মর্যাদা, মানবাধিকার ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, রামগঞ্জব্যাপী হাতপাখা প্রতীকের প্রতি মানুষের মাঝে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেই জোয়ার ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার ঘটানো হয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, উক্ত ঘটনার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।