বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় বড় পরিসরে নারী সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ‘প্রতিবাদী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই ‘প্রতিবাদী সমাবেশ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সারা দেশে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নারীকর্মীদের নির্বাচনী কাজে বাধা প্রদান, সহিংস হামলা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সমাবেশটির আয়োজক হিসেবে থাকবে জামায়াতের মহিলা বিভাগ।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো জামায়াতের নারী নেতা-কর্মীদের বড় জমায়াত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন- আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দল, যাদের ৪৩% মহিলা এবং এর সংখ্যা কম নয়, আলহামদুলিল্লাহ। আরপিওতে ৩৩% মহিলা থাকার বিধান আছে রাজনৈতিক দলসমূহের। একমাত্র জামায়াতই এই শর্তটি পূরণ করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন খুব নিকটে এবং এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মহিলারা খুবই অ্যাকটিভ। আমাদের মহিলারা স্ব স্ব এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তারা যেমন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তেমনিভাবে পুরুষ কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। আমাদের অ্যাসেসমেন্ট হলো- সারাদেশের নারী ভোটারগণ জামায়াতকে বেশি ভোট দেবেন। কারণ মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং তারা বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। সারাদেশে আমাদের নারীরা খুব অ্যাকটিভ। আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বুঝতে পেরেছে যে, জামায়াতের মহিলারা যে পরিমাণ অ্যাকটিভ, তাতে মহিলাদের সিংহভাগ ভোট জামায়াত পাবে। এজন্যই তারা সারাদেশে আমাদের মহিলাদের ওপর আক্রমণ করছে, হেনস্তা করার চেষ্টা করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে সারাদেশে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় এটা মনে করি- নারীরা আমাদের অত্যন্ত সম্মানীয় জাত। আমাদের মায়ের জাত, আমাদের বোনের জাত, আমাদের মেয়ের জাত এবং তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলেরই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা বেশি বেশি চিৎকার করে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে, তারা এখন দেখছি শুধু রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর হামলা করছে এবং এটা শুধু নারীদের ওপর করছে না- সারাদেশে নারী-পুরুষ সবার ওপরই হামলা শুরু হয়েছে। প্রতিপক্ষের জিহ্বা কেটে দেওয়ার কথা বলছে, জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যেতে পারবে না-এমন কথা বলছে। রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা এগুলো শুনতে পাচ্ছি। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি হচ্ছে- নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে তা দেশে এবং বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। এত বড় আন্দোলনের পরেও যদি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎটা কী? ভবিষ্যৎটা খুবই অন্ধকার এবং খুবই নেতিবাচক হবে এ জাতির জন্য। আমি আহ্বান জানাব রাজনৈতিক সব দলের প্রতি-দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভূমিকা রাখতে হবে। তা না হলে এই দেশকে সঠিক পথে রাখার আর কোনো বিকল্প থাকবে না। এতে করে সকলেই আমরা কষ্ট ভোগ করব। কেউ যদি এটা মনে করে—জোর করে ক্ষমতায় গেলেই বোধ হয় সব শেষ হয়ে গেল, আমি মনে করি এটা মারাত্মক ভুল রাজনৈতিক চিন্তা ও সিদ্ধান্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।