Image description

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘাতক বাসটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে বেলপুকুরিয়া থানার ওসি ও এক এসআইকে কান ধরে উঠবস করিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজশাহীর দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘রাজকীয় পরিবহন’ নামক একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৩জনের প্রাণহানি ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের ভয়াবহতায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া অটোরিকশার আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বেলপুকুরিয়া ও পুঠিয়া থানা পুলিশ উপস্থিত হলেও সীমানা জটিলতা নিয়ে দীর্ঘ সময় বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। উভয় থানার পুলিশ এলাকাটি তাদের আওতাভুক্ত নয় বলে দাবি করে লাশের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের এমন অপেশাদার আচরণ এবং ঘাতক বাসটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

বিক্ষুব্ধ জনতা বেলপুকুরিয়া থানার ওসিকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা ঘুষ নেওয়া ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ওসি এবং একজন এসআইকে মহাসড়কের ওপর কান ধরিয়ে উঠবস করান। ঘটনার পর থেকে পোল্লাপুকুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কয়েক হাজার মানুষ। গত ৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের ফলে রাস্তার দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের মতিহার জোনের উপকমিশনার (ডিসি) ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা করেন। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।