ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার চতুর্থ দিনে রাজপথের উত্তাপ এখন নির্বাচনি জনসভায়। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরেছেন। একদিকে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের প্রতি ইঙ্গিত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছে, অন্যদিকে ছোট দলগুলো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার অভিযোগে নতুন গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তারেক রহমানের কড়া বার্তা: দুর্নীতিবাজদের ছাড় নেই
রবিবার সকালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর তিনি ফেনী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ একাধিক পথসভায় অংশ নেন। তারেক রহমান বলেন, “একটি পক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। আমরা মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিবাজদের কোনও ছাড় নেই।” তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “ভোট শেষে কেন্দ্র আর ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের কোনও সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
চট্টগ্রামে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান
চাঁদাবাজদের ‘লাল কার্ড’ দেখানোর ঘোষণা জামায়াত আমিরের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধূপখোলা মাঠ ও পুরান ঢাকায় পৃথক তিনটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রতিপক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “দেশে এখন চাঁদাবাজি পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যারা এই পেশায় আছেন, ভালো পথে ফিরে আসুন; আমরা হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দেবো। অন্যথায় আপনাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, তরুণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ ও আন্দোলনের আশঙ্কা
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগকালে বলেন, “নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি।” এসময় ভোটারদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে দেখা করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ের প্রশাসন এখনও পক্ষপাতদুষ্ট। পরিবেশ উন্নয়ন না হলে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে দেশ আরেকটি গণআন্দোলনের মুখে পড়তে পারে।”
চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে মির্জা আব্বাসের হুঁশিয়ারি
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস শাহজাহানপুর এলাকায় প্রচারণা চালান। তিনি বলেন, “মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়াই আমার অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে হবে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস একেবারে বন্ধ করতে হবে। আমি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।” তবে নির্বাচনের আগে ‘কিছু একটা গরমিল’ রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার ধারণা, বিশেষ কোনও শক্তি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে পারে। তবে আমার বিশ্বাস জনগণ তা প্রতিহত করবে।”
মাঠের চিত্র: বিক্ষিপ্ত সহিংসতা
প্রচারণার চতুর্থ দিনে এসে লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত নির্বাচনি সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সব মিলিয়ে ভোট গ্রহণ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণার মাঠ ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
