Image description

যশোর: যশোর-৩ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের একটি পথসভায় অভূতপূর্ব ও আবেগঘন এক পরিস্থিতির সাক্ষী হলেন জনতা। দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত একজন পথসভায় উপস্থিত হয়ে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখলেন। শুধু তাই নয়, তিনি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইলেন উপস্থিত সকলের কাছে।  

অভূতপূর্ব এই ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাটবিলায়।

সেখানে যশোর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পক্ষে আয়োজিত পথসভায় উপস্থিত হন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা আনসার আলী নামে এক ব্যক্তি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আগমনের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। এক পর্যায়ে মঞ্চে উঠে প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য দেন।
 
একজন ভিন্ন রাজনীতি ও আদর্শের মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন উপস্থিত সবাইকে অবাক করলে অমিত নিজেই এর পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।

 

আবেগজড়িত কণ্ঠে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে জানান যে, তাদের এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। জেলখানায় বন্দি থাকাকালীন কঠিন দিনগুলোতে তারা পাশাপাশি ছিলেন। 

সেই দুঃসময়ে অমিত এবং তার সাথে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীরা যেভাবে আনসার আলীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছিলেন; সেই কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে তিনি অমিতের নির্বাচনি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রসঙ্গক্রমে বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে কে পাশে থাকে আর কে দূরে সরে যায়; সেটিই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

তিনি আরো বলেন, জেলখানায় আনসার আলীর সাথে জামায়াতের কোনো প্রার্থীর দেখা হয়নি। সেই বাস্তবতার আলোকেই মূলত বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি আজ ধানের শীষের মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে, আনসার আলী তার বক্তব্যে ধর্মের নামে রাজনৈতিক মিথ্যাচারের তীব্র সমালোচনা করেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণায় ধর্মকে যেভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে, মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করা মোটেও ঠিক নয়। 

তিনি রাজনীতিতে কথা ও কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।

এই পুরো ঘটনাটি উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকের চোখেই আবেগের জল দেখা যায়। এটি কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না, বরং জীবনের কঠিন সময় থেকে উঠে আসা এক গভীর বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য আনসার আলী ওই এলাকার জামায়াতের সাবেক নেতা এবং সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান। অনিন্দ্য ইসলামের প্রতি ভালবাসা জানাতে তিনি এসেছিলেন।

 

রাজনীতিক অমিতের প্রতি হাটবিলার মতো বিশ্বাসময় ভালোবাসার এমন আবেগীয় প্রকাশ রোববার দেখা গেছে পুরো নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে। গণসংযোগকালে তিনি ইউনিয়নের যে প্রান্তে গেছেন সেখানেই ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সাধারণ নারী-পুরুষ তাকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছেন। 

তারা যেমন উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আবদার করেছেন, তেমনি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরিকে কাজ করার দাবিও জানিয়ে রাখলেন। বললেন, এ ইউনিয়নবাসী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং ঐক্যের অটুট বন্ধনে হিন্দু-মুসলিম সমাজে এক ছাতার নিচে বসবাস করতে চান। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও পিতার উন্নয়ন ফিরিয়ে আনা এবং শান্তি, সৌহার্দ্যময় সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলেন। 

তিনি বলেন, সমাজে আর প্রতিহিংসার আগুন জ্বালতে দেওয়া হবে না, চিরতরে নির্মুল করা হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এদিন সকাল থেকে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করনে। প্রথমে তিনি ঘোড়াগাছা সাহাপাড়ায় প্রবেশ করতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষ, শিশু বৃদ্ধ সকলেই ফুল ছিটিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে তাকে বরণ করেন।

সাহাপাড়ায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্রপুর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা মোহন লাল দাস এবং চাউলিয়া দাসপাড়ায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতা শুকলাল দাস। 

তারা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার পিতা তরিকুল ইসলাম ভারতের বাবরি মসজিদ কান্ডে নিজেই পাহারাদার হয়ে আমাদের সুরক্ষা দিয়েছিলেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আপনার নির্দেশে আপনার দলের নেতাকর্মীরা আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর সুরক্ষা দিয়েছে। 

যে কারণে কোন দুষ্কৃতিকারী আমাদের গায়ে ফুলের টোকা দেওয়ার সাহস পায়নি। আমাদের জন্য আপনার পিতার দুয়ার উন্মুক্ত ছিল। উনি কখনো হিন্দু মুসলিম দেখেননি। উনি আমাদের মন্দিরের উন্নয়ন করেছিলেন। আপনার পিতার মতো আগামী দিনে আপনার কাছে একই বিষয় প্রত্যাশা করি।
 
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়ন এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার পিতার নাম জড়িয়ে আছে। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে এমপি, মন্ত্রী বানিয়ে আপনাদের উন্নয়নের সুযোগ করেছিলেন। আগামী দিনে আপনারা আমাকে সেই সুযোগ দিলে পিতার উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনবো। 

এরপর তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে শাখারিগাতি, হাটবিলা বাজার, চাউলিয়া পূর্বপাড়া, চাউলিয়া দাসপাড়া, গোপালপুর, বলরামপুর এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। 

দিনের এই কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সদর উপজেলা সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মিঠুু, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির।