Image description

হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৪ আসন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে মরিয়া জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট। অন্যদিকে স্ত্রীসহ মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হাওরের গ্রাম-গঞ্জে অবিরাম ছুটে চলছেন মোঃ আল হেলাল তালুকদার ও ১০ দলীয় জোট কর্মীরা। ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। বাবরকে পরাজিত করে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে মরিয়া ১০ দলীয় জোটের কর্মীরা। এ লক্ষ্যে জোট কর্মীরা সকাল থেকে রাত অবধি মাঠে-ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন। বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী ও তার জোট।

 

আল হেলাল তালুকদার ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০০৬-০৭ সেশনে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮-১৩ সাল পর্যন্ত দিগন্ত টিভির নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী সরকারের পতন আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত তিনি।

 

তরুণ রাজনীতিবিদ আল হেলাল তালুকদার বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায়। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের সাধারণ জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরাই বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ্।’

 

অন্যদিকে, লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন বাবর। যেখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলো অনেক পিছনে।

 

আওয়ামী সরকারের আমলে বাবর একাধিক মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দী ছিলেন। তখন স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্ব দেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। ২০১৮ সালে বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন শ্রাবণী। এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতে লুৎফুজ্জামান বাবরের পাশাপাশি তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও মাঠে নেমেছেন।

 

বিভিন্ন পথসভায় বাবর বলেছেন, ‘তিনি নির্বাচিত হলে তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে কাজ করবেন সবার আগে। তিনি আরো বলেছেন- মাদক, ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। মাদক কারবারিদের পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করছেন।"

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দিনে নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপি নয়, বরং ব্যক্তি লুৎফুজ্জামান বাবরের জনপ্রিয়তার কারণেই ধানের শীষ বিজয় লাভ করেছে। এ আসনে বাবর ছাড়া কেউ ধানের শীষের টিকেট পেলে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রার্থী আল হেলাল তালুকদারের বিজয় নিশ্চিত ছিলো।

এ আসনে জামায়াত-বিএনপি ছাড়াও লড়ছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার এবং ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মুখলেছুর রহমান। তবে, মূল লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যেই।