তারেক রহমান বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন, মানুষকে নিরাপদ করা, এসব যদি নিশ্চিত করা না যায় এবং অ্যাট দ্যা সেইম টাইম করাপশন বা দুর্নীতিকে যদি আমরা অ্যাড্রেস করতে না পারি, করাপশনকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে আমরা যত প্ল্যান, যা-ই করি না কেন, কিছুই হবে না।
নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি পুরো সিস্টেম ডিজিটালাইজ করা হয় এবং যেখানে যেখানে ত্রুটি আছে সেগুলো সংশোধন করা হয়, তাহলে মানুষ ঘরে বসেই এনআইডি নিতে পারবে। ডিজিটালাইজেশন করলে দুর্নীতি ও সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
চট্টগ্রামে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দিতে এসে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউ’র মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হলো, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব। বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ।
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে চাঁদাবাজি সমস্যার সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এখানে দুটো বিষয়।
দেশে বহুল আলোচিত ‘চাঁদাবাজি’ সমস্যার নেপথ্যে পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি বেকারদেরও সম্পৃক্ততা দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানান, সরকার গঠন করতে পারলে এর বিরুদ্ধে এমন কঠোর বার্তা দেবেন, যার মাধ্যমে অন্তত ৩০ ভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে তারেক বলেন, প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা, তাদের ক্ষেত্রে আইন অ্যাপ্লিকেবল হবে।
তিনি বলেন, ‘গভর্নমেন্টের কাছ থেকে যদি মেসেজ যায় যে, উই উইল নট টলারেট দিজ, তারপর তো গভর্নমেন্টের বিভিন্ন প্রিকশন বা স্টেপস থাকবে। আমরা করাপশন টলারেট করব না, অটোমেটিক এটলিস্ট ২০-৩০ পারসেন্ট সমস্যা রিলিজ হয়ে যাবে। সো, সেক্ষেত্রে প্রথমে আমাদের ওই দুটো ইস্যু অ্যাড্রেস করতে হবে। একটা- মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে, সেটা ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং অ্যাট দ্যা সেইম টাইম করাপশন। আমি নিশ্চয় বোঝাতে পেরেছি।’
নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান প্রক্রিয়ায় নানান ঝামেলার কথা তুলে ধরে ঝামেলামুক্ত করতে তাঁর দলের কোন উদ্যোগ থাকবে কিনা এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যদি পুরো সিস্টেম ডিজিটালাইজ করা হয় এবং যেখানে যেখানে ত্রুটি আছে সেগুলো সংশোধন করা হয়, তাহলে মানুষ ঘরে বসেই এনআইডি নিতে পারবে। ডিজিটালাইজেশন করলে দুর্নীতি এবং সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমান এনআইডি প্রক্রিয়ায় অনেক নাগরিককে ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের সিস্টেমে যেখানে যেখানে ত্রুটি আছে সেগুলো ঠিক করতে হবে।
তিনি বলেন, নাগরিকরা যদি নিজেদের কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই কাজটি করতে পারে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে। এটি শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, আমাদের সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে এনআইডি, পাসপোর্ট ও অন্যান্য সার্টিফিকেট দ্রুত এবং ঝামেলামুক্তভাবে প্রাপ্ত হওয়া উচিত। অনেক দেশে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে এবং বাংলাদেশেও তা করা সম্ভব।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সামুদ্রিক অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি একটি বিশাল সম্ভাবনা। এটি শুধুমাত্র মাছ ধরার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিপ ব্রেকিং, শিপ বিল্ডিং, ট্রেড এবং অন্যান্য সামুদ্রিক উদ্যোগকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মতো অঞ্চলে শিপ ব্রেকিং ও শিপ বিল্ডিং শিল্প রয়েছে। এই শিল্পগুলোকে ধীরে ধীরে উন্নত করা এবং সংগঠিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। ট্রেড এবং বিজনেস বৃদ্ধি করলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন খাতে ছোট-ছোট এন্টারপ্রেনার ও উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। এতে অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়বে এবং যুব সমাজের অংশগ্রহণ জোরদার হবে। বাংলাদেশের দীর্ঘ সমুদ্রসীমা এই খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, একাত্তর সালে যখন যুদ্ধ হয়েছিল দেশ স্বাধীন করার জন্য তখন কে কোন ধর্মের এটা কিন্তু কেউ দেখেনি। আবার কে সমতল বা কে পাহাড়ের এটাও কেউ দেখেনি। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালে যখন আন্দোলন হয়েছে ঠিক সেইসময়ও কে কোন ধর্মের কেউ দেখেনি, ঠিক একইভাবে কে সমতলের বা কে পাহাড়ের সেটাও কেউ দেখেনি। বাংলাদেশে একজন সমতলের আপনার মতো তরুন প্রজন্মের সদস্য যে সুবিধা পাবে, পাহাড়ের মানুষ হয়ে আপনিও সেইম সুবিধা পাবেন আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে। পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কি-না সে ভাবনাও আছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমমিটার খাল আমরা খনন করব। খাল খনন করা হলে কৃষির জন্য পানি পাওয়া যাবে। একইভাবে বর্তমান সময়ে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে।
তিনি বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে যেখানে মাটির আট দশ ফুট গভীরে সহজেই পানি পাওয়া যেতো সেখানে এখন ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। খাল খনন কর্মসূচি চাল করা করা হলে ভুগর্ভস্থ পানির সমস্যাও সমাধান হবে বলে উল্লেখ করেন।
ইয়ুথ পলিসি টকে চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।