বাংলাদেশে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে চালু হওয়া খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা (Food for Education) কর্মসূচিটি দেশের দরিদ্র শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে এক অনন্য বিপ্লব ঘটিয়েছিল।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল অভাবের তাড়নায় যেন কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। নীতি অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকত, তবে তার পরিবারকে মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বা গম প্রদান করা হতো। এই পদ্ধতিটি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এক বিশাল আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে, যার ফলে তারা সন্তানদের কাজে না পাঠিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত হয়। এটি ঝরে পড়া রোধে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই 'প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যের আইন' প্রবর্তনের মাধ্যমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তিনিই প্রথম নারী নেতা হিসেবে ছাত্রীদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন। এই সিদ্ধান্তটি দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে এবং বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্ভাবনী কর্মসূচি কেবল উপস্থিতিই বাড়ায়নি, বরং শিক্ষার মানোন্নয়নেও বড় অবদান রেখেছে। ইউনেস্কোসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি পর্যবেক্ষক এই উদ্যোগকে উচ্চ প্রশংসা করেছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশ পরবর্তীতে বাংলাদেশের এই মডেল অনুসরণ করে নিজস্ব শিক্ষা প্রকল্প চালু করেছে। আজও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় রাখতে এই দর্শনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
বেগম খালেদা জিয়ার এই শিক্ষাবান্ধব নীতিগুলো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে এবং একটি শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়তে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।