ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে হিন্দু বাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মুসলিম গৃহবধূ। সেইসঙ্গে গৃহবধূর পরনে থাকা স্বর্ণের গহনাও ছিনিয়ে নেয় ওই সংঘবদ্ধ ধর্ষণকারীরা। তবে লজ্জা আর ভয়ে আত্মগোপনে ভিকটিম, এখন পর্যন্ত অভিযোগও করা হয়নি পুলিশের কাছে। অবশ্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে স্থানীয় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘‘ঘটনাস্থলে আমিসহ কয়েকজন গিয়েছিলাম, ছিনতাইয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি; কিন্তু ধর্ষণের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি।’’
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘‘আমরা ভিকটিমের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী মামলা নেয়া হবে। তবে লুটপাটের ঘটনার কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ধামরাই উপজেলার পাবরাইল এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্মের গাড়ি চালক মো. আব্দুর রাজ্জাক তার স্ত্রী নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদে ঘুরতে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন সেখানকার রাম রাবণ গ্রামের ফনি চন্দ্র মনি দাসের ছেলে ও এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্মের নিরাপত্তা কর্মী কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাস। দিনশেষে সন্ধ্যার দিকে তারা কৃষ্ণ চন্দ্র মনিদাসের বাড়িতে বেড়াতে যান। তিনি (কৃষ্ণ চন্দ্র) তার বোন শান্তি রানী দাসের বাড়িতে নিয়ে রাতে থাকার ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই রাতেই কয়েকজন হিন্দু যুবক আব্দুর রাজ্জাককে বেঁধে রেখে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হলে দ্রুত গা ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা।
এলাকাবাসী জানান, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সম্মানহানির ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন ভিকটিম (আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী), তাকে পাওয়া গেলেই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যেত।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাস বলেন, ‘‘এই ঘটনাটি আমি শুনেছি, অভিযুক্ত চার-পাঁচজন গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ, ভিকটিম ওই নারী পলাতক থাকায় রহস্যের জটলা বেঁধেছে। যে বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাইনি।”