Image description

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসন (লালমাই–নাঙ্গলকোট) থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ফলে কুমিল্লা-৪ আসনের মতো এখানেও বিএনপির প্রার্থী থাকছে না। ফলে এ আসনে কাকে সমর্থন দেবে দলটির নেতৃত্বাধীন জোট, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবদুল গফুর ভূঁইয়ার রিট আবেদন খারিজ করা হয়েছে। ফলে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ আসনে বিএনপি জোটের শরিক গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হয়েছেন রমিজ বিন আরিফ। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মো. শামছুদ্দোহা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের মো. আবদুল্লাহ আল নোমান এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহম্মেদ।

এখানে গণঅধিকারের রমিজ বিন আরিফকে বিএনপি জোট সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় এখানে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি এ নিয়ে শুনানির পর আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি।

২০ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন কুমিল্লা-১০ আসনে (লালমাই-নাঙ্গলকোট) প্রার্থিতা বাতিল করায় হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। এর আগে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় ইসি।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অভিযোগকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী। ইসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

এর আগে কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এই রিট খারিজের ফলে তিনিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের  হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।