প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়াই শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া ভোটের এ প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
তবে এবার পোস্টার না থাকায় জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে। ভোটাররাও বুঝতে পারছেন না নির্বাচনের আমেজ। পোস্টার না থাকায় অনেকেই বিভিন্ন দলের বা স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চিনতে পারছেন না।
নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা-২, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৫ এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিন সরেজমিনে শুধু পোস্টার নয়; মাইকিং ও বিলবোর্ডও চোখে পড়েনি কোথাও।
মোহাম্মদপুর ভাঙা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সাদিক খান মিল্কি জাগো নিউজকে বলেন, পোস্টার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন কেমন যেন ফ্যাকাসে লাগছে। কে দাঁড়াইছে না দাঁড়াইছে বুঝতে পারছি না।ভোটের প্রচারণার কোনো আমেজ নেই।
গতকাল বুধবার সারাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।এর আগে প্রতীক পেয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণা করতে পারতেন প্রার্থীরা। তবে এবার একদিন পরে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর) থেকে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা।
সবজি বিক্রেতা শেখ ফরিদের বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলায়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটে কে দাঁড়াইছে বুঝতেছি না। কাহাক ভোট দিমু।’
মোহাম্মদপুর চাঁনমিয়া হাউজিং এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন (৭৫)। দীর্ঘ দিন এলাকায় চা বিক্রি করেন।তিনিও এখনো নির্বাচনের আমেজ আঁচ করতে পারছেন না।
নিজাম উদ্দিনের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শফিকুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘প্রার্থী কে চিনতে পারি না। ১২ তারিখে যে নির্বাচন তা-ও বুঝতে পারছি না।অনলাইনে প্রচার কীভাবে বুঝবো। সবার কাছে তো স্মার্ট ফোন নাই। আপনার (প্রতিবেদককে ইঙ্গিত করে) হাতে আছে, আমার হাতে কিন্তু নাই। আমার এলাকায় কে ভোটে দাঁড়িয়েছে আমি চিনতে পারছি না।’
নতুন বিধিমালায় প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষায়ও কঠোরতা আনা হয়েছে। প্রচারে ড্রোন বা কোয়াডকপ্টারের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আকাশ থেকে লিফলেট বা অন্য কোনো প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা যাবে না। কোনো ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ। আর স্লিপের আকার সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটার গুণ ৮ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার ভোটের প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে—দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে। তবে শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে।নির্বাচনে ভোটার স্লিপ দেওয়ার যে প্রথা রয়েছে তার আইনগত ভিত্তি দেওয়া হয়েছে আচরণ বিধিমালায়।প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে।তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না। এসব প্রচারণাও চোখে পড়েনি।
রিকশাচালক জমির বাদশা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবনধারণ করেন। থাকেন শ্যামলী এলাকায়। কথা হলে তিনি বলেন, ‘পোস্টার না হলে জাতীয় নির্বাচনে কাকে ভোট দিমু। ভোটে কে খাঁড়াইলো, নিজেগো লোক খাঁড়াইলো নাকি বাইরের লোক খাঁড়াইলো কিছু তো বুঝি না। আমরা ভোটটা দিমু কারে, পোস্টার না থাকলে প্রার্থী ক্যারা খাঁড়াইছে আমরা জানমু ক্যামতে। পোস্টার থাকলে তো মার্কা ও চেহারা দেইখা বুঝন যায়।’
মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। জন্মস্থান ভোলার লালমোহনে। থাকেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায়। কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোটের আমেজ বোঝা যাচ্ছে না। পোস্টার ছাড়া নির্বাচন আরও খারাপ লাগছে। প্রচারণা শুরু হয়েছে কি না কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।’