ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো প্রাণীপ্রেমীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী উৎসব ‘ফার্স্ট পেট কার্নিভাল’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে টিএসসি প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
ডাকসু ও CARE DU-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এবং মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কার্নিভাল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, পোষা প্রাণীর মালিক ও প্রাণীপ্রেমীদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। পুরো আয়োজনের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের পোষা প্রাণীর আন্তরিক সম্পর্ককে উদযাপন, প্রাণীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রাণী কল্যাণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে টিএসসি প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনস্থলে।
কার্নিভালে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের পোষা প্রাণী নিয়ে অংশ নেন।
কার্নিভালে অংশ নেওয়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান বলেন, ‘আমি আমার পোষা বিড়াল ‘মিলু’-কে নিয়ে এসেছি। এমন আয়োজন আগে কখনো ক্যাম্পাসে দেখিনি।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিয়মিত আমার কুকুরটাকে নিয়ে হাঁটতে বের হই, কিন্তু ওর স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। আজ এখানে এসে ভেটেরিনারি ডাক্তারদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে পরামর্শ পেয়েছি। এটা আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় সুবিধা।
আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, ‘ঢাবিতে এমন সুন্দর, মানবিক আয়োজন হবে কখনো ভাবিনি। পড়াশোনার চাপের মধ্যে এই কার্নিভাল আমাদের মানসিকভাবে রিফ্রেশ করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন আয়োজন হবে।’
কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী পোষা প্রাণীদের জন্য বিনা মূল্যে ভেটেরিনারি চিকিৎসা ও পরামর্শ, ভ্যাকসিনেশন, পুষ্টিকর পেট ফুড, বিশেষ উপহার, ইভেন্ট টি-শার্ট ও স্ন্যাকসের ব্যবস্থা করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আজকের পেট কার্নিভাল কোনো সাধারণ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সচেতনতামূলক আয়োজন। প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব এবং ধর্মীয়ভাবেও অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ।’
তিনি আরো বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে প্রাণীর প্রতি আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের ক্যাম্পাসে থাকা প্রাণীগুলোকেও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’