Image description

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় বলেছেন, এত টাকা খরচ করে পদ্মা সেতু না বানিয়ে যদি সেচ (ইরিগেশন) খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে চালের দাম কমপক্ষে ৫ টাকা কমে যেত। বরং আজ পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে গেছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টার ওই বক্তব্যে টেনে এনটিভির চীফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জ.ই মামুন তার নিজের ফেসবুকে সমালোচনা করে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, আমার গ্রামের বাড়ি কুয়াকাটার কাছাকাছি।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে পথে পদ্মা সেতু, পায়রা সেতুসহ মোট ৯টা বা ১০টা সেতু পার হতে হয়। আশির দশকে যখন আমি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন এসবের একটাও ছিল না। ঢাকায় আসতে হলে একের পর এক ফেরি পার হতে হতো—পদ্মা নদী পার হতে হতো আরিচা-নগরবাড়ি কিংবা দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে। কলাপাড়া বা আমতলী থেকে ঢাকায় আসতে সময় লাগত ১৮–২০ ঘণ্টা, কখনো কখনো ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি।
আর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগে গড়ে ৬ ঘণ্টা।

 

তিনি আরো বলেন, এখন উপদেষ্টা মহোদয়ের বক্তব্য শুনে সত্যি বলতে মাথা গরম হয়ে গেল। উনি বলেছেন—শুধুমাত্র পদ্মা সেতুর কারণেই যদি চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে থাকে, তাহলে আমার বাড়ি যাওয়ার পথে থাকা ওই ৯–১০টা সেতুর কারণে চালের দাম কত বেড়েছে? হিসাব করলে তো দেখা যায়, ১০টা সেতু মিলে ন্যূনতম ৫০ টাকা তো বেড়েই গেছে! বাজারে যেখানে মোটা চালের দাম এখন প্রায় ৬০ টাকা কেজি, তাহলে ওই সেতুগুলো না থাকলে হয়তো আমরা ১০ টাকায় চাল খেতে পারতাম!

মামুন আরো লেখেন, অবশ্যই এটা ব্যঙ্গ করে বলা। কারণ বাস্তবতা হলো—সেতু, সড়ক, মহাসড়ক কিংবা এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন মানেই দেশের অর্থনীতির গতি বাড়ানো, সময় ও খরচ কমানো, পরিবহন সহজ করা এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা।

যোগাযোগ উন্নত হলে সাধারণত পণ্য পরিবহন ব্যয় কমে, বাজার স্থিতিশীল হতে সহায়তা করে। তাই এমন বক্তব্য যখন দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আসে, তখন প্রশ্ন উঠতে বাধ্য—এই ধরনের মন্তব্য করার আগে কি কেউ তাকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বুঝিয়ে বলেন না? অন্তত আশপাশে কি কেউ নেই, যারা তাকে মনে করিয়ে দেবেন—রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বক্তব্যে যুক্তি, প্রমাণ এবং দায়িত্বশীলতা থাকা জরুরি?

 

তিনি বলেন, জোকস এপার্ট—দেশের মানুষ যুক্তিহীন কথায় আর বিভ্রান্তি চায় না। তারা চায় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত, তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব।