বড় ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হাত ধরে ছোটবেলায় সবজি ব্যবসায় হাতেখড়ি হয় হুমায়ুন কবিরের (৩০)। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মিঠাছাড়া বাজারে সবজি বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার ভোরে এক কর্মচারীকে দোকানে বসিয়ে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন পাইকারি বাজার থেকে সবজি সংগ্রহে। তবে মিঠাছড়া বাজারের অদূরে লরিচাপায় মৃত্যু হয় তাঁর।
হুমায়ুন কবির মিরসরাই সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ এলাকার বদিউল আলমের ছেলে। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিঠাছড়া বাজার ইউটার্নের চট্টগ্রামমুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গড়িয়াইশ এলাকায় হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে খাটিয়ায় শোয়ানো হুমায়ুন কবিরের লাশ। ঘরে আত্মীয়স্বজনের ভিড়। ঘরের সামনে আহাজারি করতে দেখা গেল বেশ কয়েকজনকে। এর মধ্যে হুমায়ুনের বাবা বদিউল আলম ও বড় ভাই সালাউদ্দিনও রয়েছেন।
নিহত হুমায়ুন কবিরের বাবা বদিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে হুমায়ুন কবির সবার ছোট। বড় ছেলে মো. সালাউদ্দিনের হাত ধরে সবজি ব্যবসা শিখেছিলেন হুমায়ুন। সবজি বিক্রি করে ভালো আয় হতো তাঁর। নিজের আয়ে গ্রামে আলাদা করে দালানও তুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর ঘরে এক মাস তিন দিন বয়সী একটি ছেলে আছে।
মাথা চাপড়িয়ে কান্না করতে করতে বদিউল আলম বলেন, ‘ছেলের আকিকা দিছে এক সপ্তাহ আগে, আজ খাটিয়ায় লাশ হয়ে শুয়ে আছে। আকিকায় পাড়া-প্রতিবেশী সবাইরে দাওয়াত করে খাওয়াইছে আমার ছেলেটা। কষ্টের দিন পার করে সুখের সময় সে চলে গেল। এ কষ্ট কী করে সহ্য করব।’
নিহত হুমায়ুন কবিরের দোকানের পাশেই একটি দোকান করেন অসীম সেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সব সময় হাসিখুশি থাকত হুমায়ুন কবির। এত বছর ধরে বাজারে ব্যবসা করে আসছে, কারও সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি। তাকে আর বাজারে দেখতে পাব না ভাবতেই বুক ভেঙে গেছে।’
জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মিঠাছড়া বাজারের ইউটার্ন এলাকায় একটি লরি মোটরসাইকেল আরোহী হুমায়ুন কবিরকে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে তাঁর লাশ পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর দুটি যানবাহনই জব্দ করা হয়েছে। তবে লরির চালক পালিয়ে গেছেন।