Image description

জুলাই জাদুঘরকে বার্লিনের ওয়ার মিউজিয়ামের সঙ্গে তুলনা করে ফিচার প্রকাশ করেছে জার্মানীর শীর্ষ পত্রিকা দৈনিক তাজ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

পোস্টে ফারুকী লেখেন, আজ জার্মানীর শীর্ষ দৈনিক তাজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে একটা বড় ফিচার প্রকাশ করেছে। যেখানে বার্লিনের একটি ওয়ার মিউজিয়াম থেকে জুলাই জাদুঘর কতটা ভালো তারও একটি তুলনামূলক উদাহরণ সামনে আনা হয়েছে। জার্মানভিত্তিক সংবাদপত্রটি বলছে, আজ অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস জুলাই জাদুঘরে আসবেন এবং এটির অনুমোদন দেবেন। তার অনুমোদনের কয়েকদিনের মধ্যেই সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

জার্মান ভাষার লেখাটির বাংলা অনুবাদ করে ফারুকী লেখেন, জাদুঘরের প্রবেশপথটি একটি বাগানঘেরা এলাকা দিয়ে, জুলাই বিপ্লবের সময় এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে নিহত ৪,২০০ জনের স্মরণে একটি বৃত্তাকার স্থাপনায় ঘাসে ঢাকা একটি বিশাল কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে। চারপাশের দেয়ালে তাঁদের নাম খোদাই করা।
প্রবেশমুখে ঢুকলেই দর্শকদের অভ্যর্থনা জানায় একটি ভিডিও-ভাস্কর্য, যেখানে বিপ্লবের বিভিন্ন দৃশ্যের সংকলন দেখানো হয়। এরপর প্রবেশ করা যায় প্রধান হলঘরে। ভবনের সর্বত্র সেই সময় ভাঙচুর হওয়া দেয়ালগুলো—‘ডিক্টেটর’ কিংবা ‘খুনি হাসিনা’ ধরনের গ্রাফিতিসহ—দখলের দিনের মতোই রেখে দেওয়া হয়েছে। মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা ভাঙা চীনামাটির বাসন, লাঠি, চুলের ক্লিপ ও বিক্ষোভকারীদের ব্যানারও যেমন ছিল, তেমনই রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাচের ওপর দিয়ে হাঁটেন, যার নিচ দিয়ে সবকিছু দেখা যায়।

জুলাই জাদুঘরের বর্ণণায় আরও বলা হয়, সোফাগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, আর দেয়ালে প্রজেক্ট করা ভিডিওতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এখানে কী ঘটেছিল, তা দেখানো হয়। এটি একটি কঠোরভাবে তথ্যভিত্তিক, দক্ষভাবে কিউরেট করা মুহূর্ত চিত্র—যা বিশৃঙ্খলাকে যেমন হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরে, তেমনি বিজয়ের উচ্ছ্বাস ও জমে থাকা ক্ষোভকেও অনুভবযোগ্য করে তোলে। প্রায় সিনেমার মতো গল্প বিন্যাস ও প্রদর্শনী ধারণার কারণে এই জাদুঘরটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, যেখানে বিপ্লবে অংশ নেওয়া নারীদের ভূমিকাকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের স্বল্প সময়ের শাসনামলের ঘাটতির জন্য সমালোচনার মুখে থাকলেও, এই জাদুঘরটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার তাদের প্রচেষ্টার প্রতি একটি দৃঢ় অঙ্গীকারের মতো মনে হয়।