চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েও এলডিপির এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির দায়ে প্রথমে রিটার্নিং অফিসার এবং পরে নির্বাচন কমিশনের আপিলেও বাতিল হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আসনে জোটের প্রার্থী শূন্য থাকায় জোরেশোরে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম।
যদিও এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। আগামী ১৮ জানুয়ারি রোববার অথবা ১৯ জানুয়ারি সোমবার এই রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে জামায়াতের প্রার্থিতা ঘোষণা এবং ঘোষিত প্রার্থী এলডিপির এম এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় দোটানায় পড়েছে এলডিপি।
জোটের শরিকদের ছাড় না দিলেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় করছেন। শেষ পর্যন্ত এলডিপির প্রার্থী উচ্চ আদালতের রিট শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান কি না এবং জামায়াতের প্রার্থী মাঠে থাকবেন কি না, তা ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিনে জানা যাবে।
শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অংশগ্রহণে জোটটি ১১ দলীয় হলেও পরবর্তীতে তারা জোট থেকে বের হয়ে গেলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি ১০ দলীয় জোটে রূপ নেয়। পটিয়া আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এস এম বেলাল নুর এখনো নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।
পটিয়া আসনে ইতোমধ্যে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধতা পেলেও ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিলে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন বৈধতা পাওয়ায় বর্তমানে নির্বাচনি দৌড়ে রয়েছেন মোট আটজন প্রার্থী। বিএনপি জোট থেকে পটিয়া আসনে এনামুল হক এনামকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও জোটের আরেক শরিক গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসান এখনো নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। যদিও ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
পটিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দীন বলেন, জোটের পক্ষ থেকে পটিয়া আসন এলডিপিকে দেওয়া হলেও প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় আসন শূন্য থাকার শঙ্কা দূর করতে তারা নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ১১৩টি কেন্দ্রের কমিটি অনেক আগেই গঠিত হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।
পটিয়া আসনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। পটিয়া উপজেলা এলডিপির সভাপতি মুনছুর আলম জানান, নির্বাচন কমিশনে আপিল নাকচ হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। তারা আশা করছেন, উচ্চ আদালত থেকে তাদের প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পটিয়া আসনে ১১৩টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪২ জন এবং একজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।