জনপ্রিয়তা পেয়েছে নির্বাচনী গান ‘দেখে দেখে কেটে গেলো বেলা, বদলে যাচ্ছে দেখো খেলা’। গানটি দিয়ে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ইউটিউবার-টিকটকাররাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও-রিলস বানাচ্ছেন। ছোট এ গানেরই শেষে থাকা ‘কার পাশা গেছে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলে’ বিষয়টির ব্যাখা দিয়েছেন এর লেখক এইচ আল বান্না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, নির্বাচনে শুধু ভোট ফ্যাক্টর না; পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি, এলিট শ্রেণির বিষয়টিও নজর দিতে হবে।
তিনি বলন, ‘খেলা যে কোন লেভেলে চলছে, তা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা সাধারণত ভোটের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি এবং নিঃসন্দেহে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভূমিকা অপরিসীম। তবে এর পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রয়েছে, যেমন সিভিল সোসাইটি, এলিট শ্রেণি এবং তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’।’
তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে এসব সবগুলো স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজনীতি করতে জানতে হয়।’
এই জায়গাটিই বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘদিন তারা লাইমলাইটে ছিল না, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল না। রাষ্ট্রের বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্র- যেমন সেনাবাহিনী, প্রশাসন কিংবা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গেও তাদের কার্যকর বোঝাপড়া গড়ে ওঠেনি। ফলে এক বা দেড়-দুই বছরের মধ্যে এসব স্তরে গ্রহণযোগ্যতা ও সম্পর্ক তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
এইচ আল বান্না বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি, আশাও রাখতে পারি। বিভিন্ন লেভেলে যে রাজনৈতিক খেলাটি চলছে, সেখানে তারা ধীরে ধীরে অংশ নেবে এবং সাধারণ মানুষের ভোট ও ম্যান্ডেটের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ভোটের সময় সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র করে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ চিন্তাভাবনা তারা তুলে ধরেছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর যেন সেটি বন্ধ হয়ে না যায়।’
‘ক্ষমতায় গিয়ে যেন অহংকার বা ক্ষমতার মোহ তাদের গ্রাস না করে। একই সঙ্গে একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও কার্যকর পরিচালনার জন্য যে সব স্টেকহোল্ডার গুরুত্বপূর্ণ, তাদের যেন অবহেলা করা না হয়। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই, সমন্বয়ের রাজনীতির মাধ্যমে, একটি সুন্দর ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য’, যোগ করেন তিনি।