হাসিনা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে নতুন করে ইতিহাস হাজির করা হচ্ছে। দেড় দশকে এই আন্দোলন আসলে কেমন ছিলো? গনঅভ্যুন্থানের মিডিয়া কাভারেজ পাওয়া বামপন্থীরা এখন সবাই বিএনপি হয়ে গেছে। হাসিনা বিরোধী আন্দোলন তীব্র রুপ নিয়েছিলো ২০১৩-১৪ সালে। এরপর যে আন্দোলন হয়েছে তাতে ছিলো নানা ধরনের আঁতাত ও ষড়যন্ত্র। ফলে সে আন্দোলন সফল হয়নি।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শেষ আন্দোলনের চেষ্টা ছিলো ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি কর্মসূচী। আন্দোলনে যোগ দিতে বিএনপি ও জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় আসলেও কেন তারা মাঠে নামেনি? খালেদা জিয়া প্রস্তুত থাকার পরও ঢাকার কয়েকজন পরিচিত নেতা মাঠে নামেনি, বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো। এই বিশ্বাসঘাতকতা ও আঁতাতের কারনে আন্দোলন সফল হয়নি।
খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন। মিছিল করে তাকে কারাগারে রেখে আসা হয়েছিলো কিন্তু কোনো আন্দোলন গড়ে তোলা যায়নি। এরপর ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। যারা এই পরামর্শ দিয়েছিলন তারা এখন মহাআন্দোলনকারী সেজেছেন। কামাল হোসেনকে নেতা মানা ছিলো বিএনপির নেতৃত্বহীনতার রাজনীতির বড় ব্যর্থতা। এরপর আমি- ডামি নির্বাচনের আগে বড় কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। বলা হয় বিএনপির নেতারা রাজপথ ছাড়েনি এজন্য গুম-খুন হয়েছিলো। কিন্তু সেগুলো হয়েছিলো ২০১৩- ১৪ ও ১৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। আপনি বিএনপি নেতাদের গুম- খুনের সময় দেখেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছিলো ২০১২ সালের এপ্রিলে। চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন , জনিসহ বিএনপির নেতারা এই সময় গুম হয়েছিলো।
সত্যি কথা হচ্ছে ২০১৪ সালের পর যা হয়েছে তা হলো খালেদা জিয়াকে অসেহায় রেখে বিএনপি নেতাদের আঁতাতের রাজনীতি। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে বিএনপির বয়ান নির্মানকারীরা এখন সেটিকে অর্জন হিসাবে দেখাতে চাইছেন। বিএনপি নেতাদের ব্যর্থতার কারনে তৃনমুল পর্যায়ের নেতারা লাখ লাখ মামলায় জেলে গেছেন। যে দলের নেতারা শীর্ষনেত্রীকে মিছিল করে জেলে রেখে আসে, তাদের পরিনতি এমন হওয়াটাই ছিলো স্বাভাবিক।
সত্যি কথা হলো ২০২৪ সালে গনঅভ্যুন্থান যদি বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে হতো তাহলে কোনো ভাবেই তা সফল হতো না। গুপ্ত - সুপ্তদের পরিকল্পনা এবং অচেনা মুখের ছাত্র নেতারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে এসেছিলো বলে এই আন্দোলন সফল হয়েছিলো। আজকে বামরা বিএনপি সেজে নতুন নতুন ইতিহাসের বয়ান নির্মান করছেন। হাসিনার রেজিম বেশি দিনের আগের ঘটনা নয়। লাখো মানুষের চোখের সামনে ঘটেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির ক্যান্সার হচ্ছে ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দলের মধ্যে গুপ্ত থাকা বামরা।