দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও-অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন রাকিব।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি ইসি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার। আগামীকাল বেলা ১১টা থেকে আবারও ইসি ঘেরাও কর্মসূচি চলবে।’
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, আমরা সকাল থেকে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়েছি। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চলছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইসিতে এসে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। তারা মব তৈরি করে অনেক কিছু পরিবর্তন করছে। এটা মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ গোষ্ঠী তিনটি সিদ্ধান্ত মব তৈরি করে পরিবর্তন করেছে। তারা এটা করতে থাকলে আমরা ঘরে বসে থাকবো না।
সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘তিনটা ভিন্ন বিষয়ে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। পোস্টাল ব্যালটে পুওর ম্যানেজমেন্ট হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের বাসায় ব্যালট পাওয়া গেছে। এটা ইসি স্বীকার করেছে। এটা তারা সমাধান করবে। এনসিপি মব তৈরি করে ইসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে। শাহজালাল ছাত্র সংসদের ভোট স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।’
নির্বাচনের ব্যালটের ভাঁজে ধানের শীষসহ তিনটি বিষয়ের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাইরে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল। বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষের প্রতীক ভাঁজে রাখা হয়েছে। অথচ অন্য একটি প্রতীক এমনভাবে রাখা হয়েছে ব্যালট ভাজ করলেই প্রথমে চলে আসবে, এমন অভিযোগ তুলেছেন তারা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সামনে তারা অবস্থান নেন।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে তারা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন। রাকিব বলেন, তাদের কর্মসূচি তিনটি বিষয়ে চলছে।
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।