Image description

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর একাংশ) আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হুমকি দেয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে শনিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হাসান খানের সঙ্গে রুমিন ফারহানা তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে কথা বলছেন।

রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু জোটের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব মনোনীত হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার পর ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। সেই উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও রুমিন ফারহানার অভিযোগ, প্রশাসন আইন প্রয়োগে একপাক্ষিক আচরণ করছে। তবে ভাইরাল ভিডিওতে তার হুঁশিয়ারি এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো স্পষ্টভাবে আইনের প্রতি চরম অশ্রদ্ধার প্রকাশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

‘আপনাদের তারা বুইড়া আঙুল দেখায়, আপনারা কিছুই করতে পারেন না’—এই বক্তব্য রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আচরণবিধির সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আচরণবিধি ভঙ্গের কারণেই তাকে সেদিন জরিমানা করা হয়েছিল। 

এ দিকে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার জানিয়েছেন, আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং তা মেনে চলাই প্রত্যাশিত।

নেটিজেনরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির আচরণের প্রতিফলন নয়, এটি একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাও বহন করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, দলীয় প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসনের আইন প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়ই একত্রিত হয়ে ঘটনার কাঠামো তৈরি করেছে। এই বৃদ্ধাঙ্গুলি ম‍্যাজিস্ট্রেটকে নয়, দেখানো হয়েছে জনগণকে। প্রশাসনের দিকে নয়, আঙুল উঠেছে গণমানুষের দিকে। যেন বলা হচ্ছে, ‘দেখো, তোমাদের ভোট, তোমাদের কণ্ঠ, তোমাদের উপস্থিতির মূল্য কতটুকু।’

তাদের মতে, এটি ছিল সেই চিরচেনা দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি, যেখানে ন্যায়ের বদলে ক্ষমতা কথা বলে, আর আইনের বদলে প্রয়োগের বৈষম্য মুখ্য হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রমাণ করে যে, নেতাদের আচরণ শুধু ভোটারদের জন্যই নয়, পুরো দেশের জন্য নজির স্থাপন করে। রুমিন ফারহানার ক্ষেত্রে এটি একটি সতর্কবার্তা—স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হলেও, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা যতই বাড়ুক না কেন, একজন নেতার আচরণ দেশীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নৈতিক ও আইনের সীমানার মধ্যে থাকা আবশ্যক। রুমিন ফারহানার বৃদ্ধাঙ্গুলি শুধু একটি ভিডিওর প্রতিফলন নয়; এটি রাজনৈতিক দায়িত্ব ও আচরণবিধির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বকেই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরটিএনএন