একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় জোট থেকে সরে যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। ইসলামের প্রতি জনতার আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। আমরা যেহেতু ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি, এখান থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এ জন্য কাল আপনারা লক্ষ করেছেন, ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে, যেখানে আমরাও ছিলাম; এখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, আসন বণ্টন ঘোষণা করা হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের যে পথচলা, বিশেষ করে পাঁচ আগস্টের পর থেকে ইসলামপন্থি শক্তিগুলোকে একসঙ্গে করার যে চেষ্টা চলছিল, শেষ পর্যায়ে এসে সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেজন্য আমরা আজ ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল, যার মধ্যে দুটি আসনে বাতিল হয়। বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়েছি, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।
ঐক্য ভেঙে যাওয়ার পেছনে আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে কিনা– সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গাজী আতাউর বলেন, ‘আসন কমবেশি হতেই পারে। তবে এখানে আমাদের আত্মসম্মানবোধে লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াত ও আমাদের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম একসঙ্গে বসেছিলেন। প্রথম দিনই তিনি (জামায়াত আমির) অপমান করেছেন।’
কীভাবে অপমান করেছিলেন, তা উল্লেখ করে গাজী আতাউর বলেন, যেদিন তারা (দুই দলের আমি) বসেছিলেন, সেদিন একটি পত্রিকা জরিপে বলেছিল– বিএনপিকে চায় ৬৫ ও জামায়াতকে চায় ২৫ শতাংশ মানুষ। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের ছিল শূন্য দশমিক এক শতাংশ। ওইদিন আলোচনার শুরুতেই জামায়াত আমির আমাদের আমিরকে বলে বসেন– ‘পত্রিকায় একটি জরিপ এসেছে, এটি দেইখেন’। তাঁর এই কথা বলার অর্থ কী? অর্থ হলো– অপমান করা যে আপনাদের তো কোনো পয়েন্টই নেই।
তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকের পরই আমাদের আমির বলেছিলেন– তাদের মতলব কিন্তু ভালো নয়। হয়তো তারা আমাদের সঙ্গে বে-ইনসাফি করবে।’
এদিকে, শুক্রবার বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ের সময়ই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন দিকে চলে গেছে’– গাজী আতাউরের এমন মন্তব্য সঠিক নয় দাবি করে জুবায়ের বলেন, ‘জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জামায়াত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) আদর্শের আলোকে পরিচালিত একটি ইসলামী সংগঠন।’
জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়– এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য গাজী আতাউর রহমানের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।