Image description
 

গত ১৪ জানুয়ারি জনকণ্ঠ অনলাইনে ‘সংবিধানে থাকছে ‘বিসমিল্লাহ’; গুজব ছড়াচ্ছেন আব্বাসী’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামি বক্তা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীসহ কিছু মহল দাবি করছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস’ সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে সরকারি নথি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তদন্তে দেখা গেছে, আব্বাসী বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করেছেন যে জুলাই জাতীয় সনদে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অথচ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ রাখা হবে এবং রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। কমিশনের ওয়েবসাইটে সংগৃহীত জনমতের ভিত্তিতেই এই সুপারিশ করা হয়েছে, যা আব্বাসীর দাবি বিপরীত প্রমাণ করে।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর মূলনীতিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নথিতে বিসমিল্লাহ বা অন্য ধর্মীয় শব্দ পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ নেই। বরং ২৪টি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদে ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানানো হয়েছে। সরকারি গণভোটের ওয়েবসাইট ‘gonovote.gov.bd’-তেও এ ধরনের গুজবের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আব্বাসীর মতো প্রভাবশালী বক্তারা যাচাইবিহীন মন্তব্য করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মূলত ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জুলাই জাতীয় সনদ ধর্মীয় অবস্থানকে সংকুচিত না করে বরং আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত।

 

এরপর একটি মাহফিলে আব্বাসী জনকণ্ঠকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “ইত্তেফাক, জনকণ্ঠকে চ্যালেঞ্জ করলাম, কী করতে পারো করতে থাকো। আমিও দেখব ইনশাআল্লাহ।” তার দাবি অনুযায়ী, কিছু মিডিয়া তার পুরনো বক্তব্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে ভুল তথ্য পরিবেশন করেছে।