আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দলেরই এক বিকল্প প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে বগুড়া-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল করেন ওই আসনের বিকল্প প্রার্থী একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকির।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং দলীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কাজী রফিকের ঋণ খেলাপি বিষয়টি তার পিছু ছাড়ছে না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকির বেসরকারি একটি ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেন। ওই আপিলের কপি গণমাধ্যমে পৌঁছালে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়—একই দলের বিকল্প প্রার্থী কীভাবে মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন? বিষয়টি এখন ঐ আসনের ভোটারদের মাঝে দ্বিধা বিভক্তি।
এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু এরপরও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন জাকির বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই আসনের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলামকে। তবে, তার বিরুদ্ধে ঋন খেলাপীর অভিযোগ ওঠায় মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন রাতে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরকে ডামি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। তার মনোনয়নে সংযুক্তি- ২ উল্লেখ করা হয় অর্থাৎ কোনোভাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হলে সেখানে বিএনপির এই বিকল্প প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকির বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন।
কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় বিএনপির মুল প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ও ডামি প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকিরের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে এসে কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন বিএনপির ডামি প্রার্থী জাকির নিজেই। অর্থাৎ কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশন কতৃক বাতিল হলে তখন বিকল্প প্রার্থী জাকির বিএনপির প্রার্থী হিসেব মনোনীত হবেন। নির্বাচন কমিশন কতৃক কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল না হওয়ায় এবার জাকির নিজেই কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আপিল করেছেন। যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি হিসেবেই দেখছেন দলীয় হাই কমান্ড।
এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান এটিকে শৃংখলা পরিপন্থি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যেনো কোনো প্রকার কাজ করা না হয় সেজন্য দলের নির্দেশনা আছে। তারপরও যদি কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে তবে তদন্ত পূর্বক কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।
এ বিষয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বিএনপির প্রথম দফায় ঘোষিত ২৩৭ জন মনোনীত প্রার্থীর একজন। দলের ঘোষণার পর আমি মাঠে নামি। কিন্তু শুরু থেকেই আমাকে অনলাইন ও অফলাইনে হেনস্তা করা হচ্ছে। এমনকি আমার বক্তব্য এডিট করে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। বিএনপির একজন নেতা হয়ে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করায় আমি ভীষণ বিব্রত। একজন সৎ মানুষ কখনো এমন কাজ করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষের বিজয় মানে জনতার বিজয়”—এই বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। পরে বিএনপির মিডিয়া সেল বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে বিবৃতি দেয়।
তিনি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে সবাইকে দলীয় বিভাজন এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি, তিনি রেন্স গ্রুপের সাথে থেকে নাসা নজরুল ইসলাম এর পার্টনার, ব্যাংকের ঋন খেলাপি। এজন্য তার বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিয়েছিলো। রীট করে টিকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ১২ জানুয়ারি জাতীয় দৈনিকে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে সমন দিয়েছে। আবার তার বিরুদ্ধে কোর্ট ঋন খেলাপি সাব্যস্ত করেন।
এই ঘটনায়, সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে জামায়াত প্রার্থী।
স্থানীয়দের দাবি, বগুড়া বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে এবং সে কাজে জাকিরকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ একে অপরের বিরুদ্ধে।