Image description

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বাসিন্দা ইনু মিয়া (৭৫) ১৭ বছর ধরে ভাত না খেয়ে আছেন। তাঁর পছন্দের দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধেও মন গলেনি ইনু মিয়ার। মনের আশা পূরণ না হলে কোনোদিনই তিনি ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

ইনু মিয়া উপজেলার রামদী ইউনিয়নের জগৎচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সুলায়মান মিয়ার ছেলে। তিনি কৃষিশ্রমিক ছিলেন। কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় বাম পায়ে আঘাত পান। এর পর থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি। 

 

বিএনপির অন্ধভক্ত ইনু মিয়ার অভিযোগ, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে মারধরের শিকার হন। সেদিনই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, তার পছন্দের দল বিএনপি ক্ষমতায় না যাওয়া পর্যন্ত ভাত খাবেন না।

গত সোমবার উপজেলার রামদী ইউনিয়নের জগৎচর পশ্চিমপাড়ায় স্থানীয় বিএনপির কর্মীসভা হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা ভাত-তরকারি এনে ইনু মিয়াকে খেতে অনুরোধ করেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে ইনু মিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলেই তবে তিনি ভাত খাবেন।

ওই সভার প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির মো. শরীফুল আলম সেখানে বলেন, ‘যদি ইনু ভাইয়ের মনের আশা পূরণ হয়, তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভাত খাওয়ানো হবে।’

আজ বুধবার ইনু মিয়ার সঙ্গে কথা হয় সমকালের। তিনি ভাত খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘গেছিলাম ভোট দিতাম (নবম জাতীয় সংসদ)। চাইর (চার) জনের পরেই আমি গেলাম অইলে কেনডর (কেন্দ্রের) ভিতর। আমারে আওমী লীগের (আওয়ামী লীগ) ৪-৫ নেতা আইয়া লাইন্নেত্যে (ভোটের লাইন থেকে) বাইর কইরা কিলাইছে। হের লাইগ্যা ভাত খাওয়া ছাড়ছি।’

ভাত না খেলেও অন্য সব কিছুই খান ইনু মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাত খাবেন। তাঁর ভাষায়, ‘খবর পাইলেই বাসস্ট্যান্ড আইয়া মাইনসের সামনে (জনসমক্ষে) ভাত খাইয়াম। মাইনসে যাতে জানে, আমার মনের আশা পূরণ অইছে দেইখ্যো ভাত খাইতাছি।’