Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরু থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বা ‘আল্লাহর নাম’ বাদ দেওয়া হবে- এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এটি গুজব বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। 

প্রেস উইং জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে। ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরু থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বা ‘আল্লাহর নাম’ বাদ দেওয়া হবে। এরকম দাবি সম্বলিত বহু পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, গণভোটে হ্যাঁ জিতলে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস’ থাকবে না শীর্ষক দাবি সঠিক নয়৷ প্রকৃতপক্ষে, সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরু থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ সরানোর কোনো প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে বা গণভোটে নেই। 

এতে বলা হয়,  সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন (প্রথম খণ্ড)-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে কমিশনের সুপারিশসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এ অধ্যায়ের ‘রাষ্ট্রধর্ম’ সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় দুটি সুপারিশ রয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “কমিশন সুপারিশ করছে যে, রাষ্ট্রধর্মের বর্তমান বিধান বহাল রাখা হোক। এ বিষয়ে অংশীজন ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। সুতরাং, কমিশন সুপারিশ করছে যে এই বিধানটি বহাল রাখা হোক। তবে, এ ব্যাপারে কমিশন সদস্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি।”

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’/আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু’ অন্তর্ভুক্ত করা হোক।”

অর্থাৎ, সংবিধান সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম অপরিবর্তিত রাখা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষেই মত দিয়েছে।

গণভোটে থাকা প্রশ্নটি হবে এ রকম ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’ এরপর ৪ টি ধাপে নানা সুপারিশের বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে কোথাও আলোচিত দাবির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর পিডিএফ পাওয়া যায়। তাতেও আলোচিত দাবির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির উল্লেখ পাওয়া যায়। মূলনীতিসমূহ হিসেবে বলা হয়, সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ উল্লেখ থাকবে। এতে ২৪টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় এবং ৬টি রাজনৈতিক দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জানিয়ে বিদ্যমান চার মূলনীতি অপরিবর্তিত রেখে যুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি, নোট হিসেবে বলা হয়, ‘অবশ্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে তাহলে তারা সেইমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’

পাশাপাশি, গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে প্রচারিত প্রচারণা বা গণভোটের বিষয়ে তৈরি ওয়েবসাইটেও আলোচিত দাবির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। সুতরাং, গণভোটে হ্যাঁ জিতলে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস’ থাকবে না শীর্ষক দাবি মিথ্যা।