Image description
 

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে যেতে রাজি হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আইসিসিকে দুই দফায় চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসি চেষ্টা করছে বোর্ডকে বুঝানোর জন্য, কারণ শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিসিবি যতটা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, আইসিসি বলছে এটা অতিরিক্ত শঙ্কার বিষয় নয়।

এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি, তবে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিসিবি ও আইসিসি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিসিবি তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং জানিয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাবে না। এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হবে না।

বিসিবি একাধিকবার অনুরোধ করেছে যে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরিত করা হোক। তারা আশা করছে, আইসিসি তাদের অনুরোধ মেনে নেবে।

 

বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, আইসিসি টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে, তবে বিসিবির অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে কোনো সমাধান বের করার চেষ্টা করছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ভিডিও কনফারেন্সে দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। বিসিবি আইসিসির কাছে প্রশ্ন তুলেছে, তাদের দেওয়া ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’-এ বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ দলের জন্য ভারতের নিরাপত্তা হুমকি হতে পারে, বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে এবং বাংলাদেশের জার্সি পরে বের হওয়া দর্শকদেরও বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। এসব শঙ্কার পরও আইসিসি কীভাবে বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠানোর কথা বলছে?

 

আইসিসি এর জবাবে বলেছে, ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে, তবে তা ‘লো মডারেট’ বা ‘নিম্ন মাঝারি’ পর্যায়ের এবং যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি প্রশ্ন তোলে, কেবল দলই নয়, বোর্ডের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য সদস্যদেরও সেখানে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

বিসিবি মনে করে, ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। আইসিসি জবাবে বলেছে, ভারতের একজন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় না-থেকেই নিউজিল্যান্ড-ভারত সিরিজে আম্পায়ারিং করছেন। তবে বিসিবি তাদের পাল্টা যুক্তি দেয়, একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা দেওয়া এবং একটি পুরো দলের নিরাপত্তা দেওয়া এক নয় এবং এটি একটি বড় ঝুঁকি।

 

এই ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষে ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমূল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। আইসিসি প্রতিনিধিত্ব করেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তা এবং নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা।