ময়মনসিংহে পুলিশের ওপর হামলা করে এজাহারভুক্ত আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ১৭৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনার পরপরই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব।
তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় কয়েক দিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। আহত রাসেল বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়, যার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আরিফুল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুলকে গ্রেপ্তার করে। তাকে নিয়ে ফেরার পথে আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে এবং হাতকড়াসহ আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।