ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নিরাপত্তা প্রধান অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেজিস্ট্রার গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে আবারও দীর্ঘসূত্রতার ইঙ্গিত মিলেছে।৫৬২তম সিন্ডিকেটে উত্থাপিত অভিযোগ ও অভিযুক্তের দেওয়া জবাব পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ৫৬৫ তম সিন্ডিকেট সভায় আগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে সেটিকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য নতুন করে একটি ‘রিভিউ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের নিষ্পত্তি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খান বলেন, “গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সিন্ডিকেট সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই, এ বিষয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না থাকুক এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক। সে কারণেই একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্তের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে এবং বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। এমন অবস্থায় বারবার নতুন কমিটি গঠন করে তদন্ত দীর্ঘায়িত করা কার্যত দায় এড়ানোর কৌশল কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর থেকে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও তদন্ত নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।গত ২০ মে নিরাপত্তা দপ্তরের লোকবল নিয়োগের বিষয়ে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল গোলাম কিবরিয়াকে।